Analysis

অবহেলার চোখে দেখলেই বিপদ :বামেরা বাড়ছে, বুঝছে তৃণমূল ,

যোগ্য লোকের অভাব নেই বামে , ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। যেকোন সময় চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত , কঠিন পরীক্ষার সামনে তৃণমূল-বিজেপি পড়তে চলেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের উপর ভরসা না করতে পেরে ভাড়াটে পরামর্শদাতা এনেছে ২০২১ এর বৈতরণী পার করতে। এই নিয়ে যখন চাপা গুঞ্জন তখন ঘর গোছাতে ব্যস্ত বামেরা।শুধু সিপিআইএম নয় পাশা পাশি আরএসপি , সিপিআই ও ফরোয়ার্ড ব্লক। তবে এই ক্ষেত্রে সি পিআইএমই পথ প্রদর্শকের ভূমিকায়।

২০১১ ক্ষমতা থেকে চলে যাবার পর থেকে বামেদের রক্তক্ষরণ শুধু যে সংঘঠনের জন্য তাই নয়, জনতার কাছে বিগত ৩৪ বছরের ভালো কাজ তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি অনেক এগিয়ে থেকেছে বামেদের থেকে। বামেদের বহু নেতাকেই মানুষ ভুলতে বসেছে কারণ প্রচারের বাইরে তারা।

২০১৬ সালে নির্বাচনে দেরি করে হলেও প্রচার ছিল তুঙ্গে , অনেকেই ভাবতে বসে ছিলেন এই বোধ হয় বামেরা আবার ফিরলো। কিন্তু এর পর ২০১৮- ২০১৯ সালের নির্বাচনে সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারে নি , বলা যায় ব্যর্থ পরিকল্পনা। অবশ্য কোন প্রফেশনাল কোম্পানি করেন নি এই কাজ। সিপিআইএমের নিজের সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপ পরিচালনার দায়িত্বে বাঘা বাঘা নেতা ছিলেন , যেমন অমিয় পাত্র , মৃদুল দে , রবিন দেব, জয়দীপ মুখার্জীরা কিন্তু সেভাবে ফল পেলো না দল। তার ফলে বিজেপি ও তৃণমূল যথেষ্ট ভাবে সফল এক্ষেত্রে। বলা বাহুল্য বিজেপি ও তৃণমূলের হয়ে ভারী টাকার বিনিময়ে কাজ করেছেন এক দল পেশাদার মানুষ। সিপিআইএমের এটা অবহেলা বলা যায় না কারণ ভাড়াকরা সৈন্যসামন্তের ওপর ভরসা করে না সিপিআইএম। তবে যাদের ওপর ভরসা করেছিল তারা সেভাবে কাজ করে উঠতে পারেন নি। তাই এবার আর পিছিয়ে যাওয়া নয় এগিয়ে যাবার ডাক দিলেন সিপিআইএম নেতৃত্ব।

পার্টির মধ্যে একদল পেশাদার মানুষকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে সার্বিক ভাবে তৃণমূল ও বিজেপির সাথে পাল্লা দিয়ে লড়াই করা যায়। এনারা করা সেটা কোন ভাবেই প্রকাশ করতে নারাজ নেতৃত্ব। তবে একদম উচ্চ নেতৃত্বের আস্থা ভাজন মানুষরাই এই কাজ করছেন। রাজ্য সম্পাদক সূর্য্য কান্ত মিশ্র একটি ভিডিও বার্তায় আবেদন জানিয়েছেন ডিজিটাল সিপিআইএমের এই উদ্যোগে স্বেচ্ছা সেবক হিসাবে যুক্ত হবার জন্য।তবে বলা বাহুল্য ভাড়া করা সৈন্য হিসেবে কাউকেই যুক্ত করছে না এখানে।

এর পাশাপাশি বামেদের শরিক দলের মধ্যে আরএসপির নেতা মনোজ বাবু ও সিপিআই রাজ্য সম্পাদক স্বপন বাবুরাও পিছিয়ে নেই।তারাও পরিকল্পনার মধ্যেই আছেন।তার কারণ সর্ব ভারতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিচ্ছে সব দলই। শুধু সিপিআইএম করেন তাদের জন্য এটা নয় সকল মানুষের কাছেই এই প্রস্তাব কে রেখেছে সিপিআইএম। তাতে বলা হয়েছে ( সিপিআইএমের অফিসিয়াল ফেইসবুক থেকে নেওয়া )

( ” আপনি কি সিপি‌আই(এম)-র সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমে কাজ করতে আগ্রহী ? যে সমস্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ১) সমীক্ষা, ২) তথ্য সন্নিবিষ্ট ও বিশ্লেষণ, ৩) কোনো বার্তা বা ভাবনার পরিকল্পনা করে তার সুসমন্বিত প্রচারের লক্ষ্যে একটি টিম তৈরি করার অভিজ্ঞতা এবং ক্ষমতা ও দক্ষতা আছে, তাঁদের এই কাজে স্বাগত জানাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য, বাংলার সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, আঞ্চলিক ভাষাগত এবং জাতিগত বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য অনুকূল একটি পরিবেশ তৈরি করা। শান্তি ও ঐক্য রক্ষা, ব্যক্তিগত মর্যাদা, আত্মসম্মান, নিরাপত্তা-সুরক্ষা, জীবন ও জীবিকাকে সুরক্ষিত রাখা। জনসাধারণের মধ্যে বাম, গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ এবং প্রগতিশীল ভাবনার প্রসার ঘটানো।

এই লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় যে কোনো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। চ্যালেঞ্জ অপরিসীম হলেও আমাদের সামর্থ্য সীমিত। আপনি যদি ব্যক্তিগতভাবে এই লক্ষ্যে সিপিআই(এম)-র ডিজিটাল স্বেচ্ছাসেবক হতে চান, তবে অনুগ্রহ করে এই ফর্মটি পূরণ করুন: https://forms.gle/xpFoUUbVkadFaTpf9
আর আপনারা যদি সমষ্টিগতভাবে সিপিআই(এম)-র সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমে কাজ করতে আগ্রহী হন তবে এখানে আপনাদের প্রস্তাব ইমেল করুন: cpimdigital@gmail.com
আরও বিশদে জানার জন্য আমাদের ওয়েবসাইট দেখুন: http://www.cpimwb.org.in/page/cpim-digital
হোয়াটস-অ্যাপ যোগাযোগঃ ৮০১৭৯২১৮৬৬ “. )

এখন দেখার বিষয় প্রচার আর বাস্তবের মধ্যে ফারাক থাকে কিনা। কেননা পরিকল্পনা এক জিনিস আর সেটা বাস্তবে প্রতিফলিত করা সেটা খুবই কঠিন বিষয়। তার কারণ ডিজিটাল এতটাই প্রযুক্তি নির্ভর যারা প্রতিদিন না কাজ করে হাতে কলমে তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলছেন এই প্রযুক্তির মাতব্বররা। আর কিছুটা ব্যয় সাপেক্ষ নাতো মানুষের কাছে নিয়ে যেতে পারবে না। নির্দিষ্ট ভাবে প্রোডাক্ট ডিজাইন করার মত করে সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছাতে পারলে আখেরে লাভ হবে না। এদিকে প্রশান্ত কিশোরের কাজ মানুষের সাথে যোগা যোগ বাড়িয়ে ভরসা যোগ্য মুখ করে তোলার কাজ শুরু থেকেই করছেন । প্রথম থেকেই তারফলে এদের সাথে পাল্লা দিতে হলে রাজনৈতিক বোধ সম্পূর্ণ কারিগরের দরকার। মাথা ভারী করা লোক হলেও এই কাজ করতে পারবে না, বা বড় অফিসের সৌখিন বাবুর কাজ এটা নয়। তার ফলে আগামীই বলবে এই উদ্যোগ সিপিআইএম কে কতটা এগিয়ে দিলো ?

Show More

Related Articles

Back to top button
Close