Big Story

“কালো ছায়া পোটোপাড়ায় : কালীঘাটে পোটো পাড়ায় জোর ধাক্কা “৮ কড়া মাটির দাম ২০০০ টাকা ,

মাথায় হাত বাড়ী থেকে বারোয়ারি পুজো কর্তাদের। সামলাবেন কিভাবে বুঝে উঠে পারছেন না , প্রতিমার দাম বাড়ছে আকাশ ছোয়া। সেই তুলনায় প্রতিমা গড়ার সংখ্যা কম দাম বেশি।

নাজেহাল কর্মকর্তা থেকে কালীঘাটের পটুয়ারা , মাটির যোগান দুর্লভ হয়েছে ৮ থেকে ৯ মাস , কারণ কালীঘাটে ছোট নৌকা ভিড়ছে না ঘটে। জিজ্ঞাসা করলে মুখ দেখা দেখি করছে। এড়িয়ে যাচ্ছে সকলেই। ঠাকুর তৈরির মূল উপাদান মাটি , আর সেই মাটির ওপর বসেছে কালো ছায়া। আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি ছোট নৌকায় আসতো কালীঘাটে। আর সেই মাটি সাইকেল ভ্যানে করে পৌছে যেত পালেদের ঘরে ,তার পর প্রতিমা তৈরি করেন পালেরা।

কেন আসছে না মাটি কালীঘাটের ঘাটে। ওপিনিয়ন টাইমস সেই খোঁজ চালাতে গিয়ে বড়সড় সত্যের সামনা সামনি। নাম করতে চায়না এরকম অনেকেই বললো যে, ” দিদির বাড়ী কাছে তো তাই নিরাপত্তার জন্য নৌকা আস্তে দেয় না পুলিশ। ২০১১ থেকে ২০১৮ কি নিরাপত্তার অভাব ছিল না পাল্টা প্রশ্ন করলে বলেন দেখুন সব কিছু বললেই আমাদের চলা নামিয়ে দেবে। আমরা কাজ কিভাবে করবো।” আরো বলেন এই গলি তে বায়না দেবার জন্য গাড়ি করে দূরের লোকেরা আসেন , সেখানে গাড়ি দারিতে দেন না। লোক না এলে অর্ডার পাবি কি করে আমরা। ঠাকুর বের করানো নিয়ে আমাদের খুব অসুবিধা।

আমরা খিদির পুর দই ঘাট থেকে কালী ঘাটে মাটি ছোট হাতিতে এনে কাজ করি। আগের বছর পর্যন্ত ১০ করা মাটির দাম ছিল ৯০০ টাকা , আর সেটা পেতাম এই কালীঘাটের নদীর পাড় থেকে। আর এখন খিদির পুরের দই ঘাট থেকে আন্তে ৮ কড়া মাটির দাম পরে ২০০০ টাকা , তার ওপর যারা আনে টরে ২০- ৩০ তাজা দিতে হয় চা জল খাবারের জন্য।এছাড়াও মাটি পাওয়া না পাওয়া তা নির্ভর করে ওনাদের মর্জিমত। ফলে অবস্থা খুব খারাপ অবস্থা।

এর ওপর আবার দেশ জুড়ে চালু হয়েছে পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি)। এর জন্য দাম বেড়েছে বিভিন্ন জিনিসের। সেই বাড়তি খরচে ইতিমধ্যেই হাত পুড়তে শুরু করেছে কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীদের। বাজার-চলতি কৌটোর রঙের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে প্রতিমার রং তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর পাশাপাশি তাঁদের দুর্ভোগ খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছে কেরোসিন তেলের আকাল।

আবারো আরেক টি গুরুত্বপূর্ণই বিষয় হল শিল্পীদের কেরোসিন পেতে সমস্যা হচ্ছে। শিল্পীদের স্বার্থে শীঘ্রই তেল দেওয়ার ভাবনা-চিন্তা চলছে সরকারের , কিতা তা বাস্তবে আজ হয় নি। প্রাকৃতিক রং তৈরির জন্য জলের সঙ্গে তেঁতুল বীজের পাউডার মিশিয়ে বেশি তাপমাত্রায় ফোটাতে হয়। ওই আঠার সঙ্গে গুঁড়ো রং মিশিয়ে তৈরি হয় প্রাকৃতিক রং। স্টোভ জ্বালিয়ে এই পদ্ধতিতে রং তৈরি করতে কেরোসিন প্রয়োজন। আবার চলতি বছরে লাগাতার বৃষ্টির জন্য প্রতিমা শুকোতে সমস্যা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘ব্লু ল্যাম্প’ জ্বালিয়ে প্রতিমা শুকোতেও দরকার কেরোসিনের। পাশাপাশি, ঠাকুর তৈরির জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকেরা এসে থাকছেন কুমোরটুলিতে। তাঁরা রোজকার রান্না করেন কেরোসিন ব্যবহার করেই।

প্রতিশ্রুতি এবং রাজনীতি সব কিছু মিলিয়ে আটটা বছর পেরিয়েও অস্থায়ী পোটোপাড়ায় নিত্যদিনের সঙ্গী কেবল অনিশ্চয়তা। পুজোর মুখে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ আরও বাড়ে বই কমে না। কারণ পুজোর এসে গেলেও মেলে না চাহিদামতো মূর্তি তৈরির বরাত।মাস দুয়েকও বাকি নেই। তার আগের এই সময়টায় চূড়ান্ত ব্যস্ততা থাকার কথা মৃৎশিল্পীদের। অর্ডার সামলাতে নাওয়া-খাওয়া বন্ধের জোগাড় হয়। তবু এমন সময়েও কাজ খুঁজে বেড়াচ্ছেন অস্থায়ী কুমোরটুলির শিল্পীরা

“উপর থেকে দেখলে মনে হবে আমরা ভালো আছি। আমরা কিছুই পাই না, না সরকারি সাহায্য না কর্পোরেট সাহায্য। লং নিয়ে চোরা সুদে টাকার জোগাড় করতে হয় , ব্যাঙ্কও লোন দিতে চায় না। ঝড়বৃষ্টিতে চিন্তা নেই। পাকা ঘরে রয়েছি। কিন্তু রোজগারই যদি না হয়, তাহলে এমন পাকা ঘরে থেকে কী লাভ?”। হবে বলেও আশা রাখি না।” অভিযোগ, “আগে যারা প্রতিমা কিনতে আসত তারা অনেকে এখানে আস্তে চান না পুলিশের বাড়াবাড়িতে। তাই কেউ আসেও না৷ কোনও রকমে মহাজনের কাজ করে আর ছোট মূর্তি গড়ে পেট চালাচ্ছি।” হতাশার সুরে বললেন নাম প্রকাশ না করা শিল্পী ,দূরে দাঁড়িয়ে থাকা বাপি পাল “নিজের বাড়ি আর ভাড়া বাড়ির তফাত বোঝেন? আমাদের অবস্থা সে রকমই। না পারছি গিলতে, না পারছি ওগরাতে। এর থেকে ঢের ভালো ছিল ওই ছোট ঘর, ঘুপচি গলি, ঝড়ঝাপটা।”

মৃৎশিল্পীরা জানাচ্ছেন, একটি সাধারণ মাপের (১০ ফুট) দুর্গা এবং অন্য প্রতিমাগুলির জন্য কমপক্ষে ৩৫ বর্গমিটার কাপড় লাগে। এই কাপড় আসে মূলত সুরাত থেকে। প্রতি বর্গ মিটার কাপড়ের দাম ১২০-২০০ টাকা।আর ‘‘জিএসটি’র অজুহাত দেখিয়ে কোনও কোনও ব্যবসায়ী এবার প্রতি বর্গফুট কাপড়ে ২০-২৫ টাকা বেশি নিচ্ছে। প্রতিমার সাজসজ্জার উপকরণগুলিরও দাম বাড়ায় প্রতিমার নির্মাণ খরচ অনেকটা বেড়েছে।’

আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন তাঁর ব্যবসার ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো নয়। এর চেয়ে চাকরিবাকরির লাইনেই চলে যাওয়াই ভালো।ঋণ নিয়ে কাজ করেন, তবে যে ভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, তাতে অনেকেরই ঋণ শোধ করতে কাল ঘাম ছুটে যায়।হতাশা বাড়ছে তাই আগামী প্রজন্ম আর এই পেশায় আস্থে চাই না।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close