Sports Opinion

আগামী কাল আবেগের সল্টলেক , উদ্বেগের ৯০ মিনিট : ইস্টবেঙ্গল মোহন বাগান ডার্বি ম্যাচ !

রবিবার মরসুমের প্রথম ডার্বি। ডাঙায় ইলিশ-চিংড়ির যুদ্ধ ঘিরে ধুন্ধুমারকাণ্ড। ঘটি- বাঙালের লড়াইয়ে বাংলা দ্বিখণ্ডিত হয় ওই একটা দিন।

যদিও সঠিক পরিসংখ্যান বিতর্কিত হলেও, ইস্ট বেঙ্গল বনাম মোহন বাগান ৩৫০ টির বেশি ডার্বি ম্যাচের ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করে। এখন পর্যন্ত, কলকাতার ইস্ট বেঙ্গল এবং মোহন বাগানের প্রতিদ্বন্দ্বীরা একে অপরের বিপক্ষে ৩৬১ ম্যাচ খেলেছে। এই তথ্য প্রতিযোগিতামূলক সহ, বন্ধুত্ব এবং মিল উপর হেঁটে ইস্ট বেঙ্গল ১২৭ টি ম্যাচ জিতেছে, মোহন বাগানের ১১৬ ম্যাচ জিতেছে এবং ১১৮ টি ড্রতে শেষ হয়েছে।

২০০৭ সালের ডার্বি (ইস্ট বেঙ্গের পক্ষ থেকে) এর হ্যাট্রিকটি তাকে ২০০৯ সালে নাইজেরিয়ান এদেহ চিডি (মোনন বাগানের পক্ষে) করার জন্য তৃতীয় খেলোয়াড় বানিয়েছিলেন, যিনি চতুর্থ খেলোয়াড় হ্যাটট্রিকের জন্য হিট কৌশলের পুরস্কার পান। কলকাতা ডার্বি আমিনো দেব ৫ ই সেপ্টেম্বর, ১৯৩৪ সালে দরবারঙ্গ শিল্ডে এই ডারিতে একটি হ্যাটট্রিক সহ ৪ গোল করে এবং ফুটবলার মোহন বাগানে ৪-১ ব্যবধানে জয়ী হন। একটি ডার্বি মধ্যে দ্রুততম লক্ষ্য মোহাম্মদ আকবর দ্বারা স্কোর ছিল। ১৯৭৬ সালের ২৪ জুলাই মোহন বাগানের সঙ্গে ইস্ট বেঙ্গের ১-০ গোলে পরাজিত করে মোহাম্মদ আকবরের ১৭ সেকেন্ডে গোল করে গোল করে।

ডার্বিতে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন বাইচুং ভুটিয়া৷ তার ১৯টি গোলের মধ্যে ১৩টি লাল-হলুদ ও ছ’টি মেরুণ-সবুজ জার্সিতে করেছেন তিনি৷ এরপরেই রয়েছেন জোসে ব্যারেটো৷ মোহনবাগানের জার্সিতেই ১৭টি গোল করেন তিনি৷ ব্যারেটোই একমাত্র ফুটবলার যে, একটি ক্লাবের হয়েই এতগুলি গোল করেছেন ডার্বিতে৷

৭৫-এর আইএফএ শিল্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে পাঁচ গোলে হেরেই মাথা নীচু করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিলমোহনবাগানকে। ৩৪ বছর ধরে বাগান সমর্থকদের সেই যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে মুখ বুজেই। ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই হাতের পাঁচ আঙুল দেখিয়েই মোহনবাগানিদের ব্রিদ্রুপ করত। কিন্তু ২০০৯-এ এর উত্তর দিয়েছিল মোহনবাগান। ১৯৭৫ এর ৫-০ র বদলা ৫-৩ এ নিয়েছিল মোহনবাগান। এই ম্যাচে একাই শেষ করে দিয়েছিলেন চিডি এডে। চার গোল করেছিলেন তিনি। ২৫ অক্টোবর যুবভারতীতে আরও একটা নজির গড়েছিলেন এই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার। একমাত্র বিদেশি ফুটবলার হিসেবে ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি৷ পাশাপাশি কোনও ডার্বিতে সর্বোচ্চ গোল করারও নজির গড়েন তিনি ৷ এই ম্যাচের ন মিনিটে শিল্টন পালের ভুলেই প্রথমে বাগান গোল হজম করেছিল। নির্মল ছেত্রীর ফ্লাইট বুঝত পারেননি শিল্টন।এরপর চিডি সমতা ফেরান। মণীশ মাথানির গোলে স্কোরলাইন ৩-১ হয়েছিল। এরপর ব্যারেটোর মাপা ক্রস থেকেই চিডি নিজের দু নম্বর ও দলের হয়ে তিন নম্বর গোলটা করেছিলেন। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে দুরন্ত পত্যাবর্তন করেছিল ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্ধের আগেই ইয়াসুফ ইয়াকুবু বাগানের দুর্বল রক্ষণের সুযোগ নিয়ে জোড়া গোল করে স্কোরলাইন ৩-৩ করেন। দ্বিতীয়ার্ধেও চিডি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি ফুরিয়ে যাননি। আরও দুটি গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছিল।

৯৭ বছরের ডার্বির ইতিহাসে ৭৫-এর শিল্ড ফাইনাল আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ছ’বছর পর শিল্ড ফাইনালে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ফাইনালে মোহনবাগানকে পাঁচ গোলের মালাই পরিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কোনও দলের এখনও পর্যন্ত ডার্বিতে এটাই সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়।ম্যাচের প্রথমার্ধেই ইস্টবেঙ্গল ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। তাও আবার পেনাল্টি মিস করেই। সুরজিত সেনগুপ্ত, শ্যাম থাপা ও রঞ্জিত মুখোপাধ্যায় স্কোরশিটে নাম লিখিয়েছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধেও ইস্টবেঙ্গলের আগুনে ফর্ম অব্যাহত ছিল। শ্যাম থাপা দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে নিজের দু’নম্বর ও ম্যাচের চার নম্বর গোলটি করেছিলেন। ৮৪ মিনিটে শুভঙ্কর স্যান্নাল বাগানের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিয়েছিলেন।

১৯৯৭-এর ১৩ জুলাই ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান। এই ম্যাচ দেখতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এসেছিলেন ১ লক্ষ ৩১ হাজার দর্শক৷ যা এখনও পর্যন্ত রেকর্ড৷ বাইচুং ভুটিয়ার হ্যাটট্রিকে মোহনবাগানকে ৪-১ হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল৷ মোহনবাগানের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন চিমা ওকোরি৷ সেসময় নতুন ডায়মন্ড সিস্টেম নিয়ে অমল দত্ত পরীক্ষা নীরিক্ষা করছিলেন। বিপক্ষের বক্সে আক্রমণের ঝড় তুলছিলেন বাগানের ফুটবলাররা। এমনকী অমল দত্ত ম্যাচের আগে থেকেই মাইন্ড গেমও শুরু করে দিয়েছিলেন। বাইচুংকে ‘চুং চুং’ বলেও ডেকেছিলেন তিনি। যদিও লাল হলুদ কোচ পিকে বন্দ্যোপাধ্যায় এসব নিয়ে কোনও মাথাই ঘামাননি। ম্যান ম্যানেজমেন্টের মাস্টার ছিলেন তিনি। দলের পারফরম্যান্সে অাগুন জ্বালাতে জানতেন ধুরন্ধর পিকে। যুযুধান দুই কোচের মস্তিষ্কের লড়াইয়ে শেষ হাসি তিনিই হেসেছিলেন।

ডার্বিতে হ্যাটট্রিক : অমিয় দেব (মোহনবাগান) ৪ গোল, দ্বারভাঙা শিল্ড, ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৮।
অসিত গঙ্গোপাধ্যায় (মোহনবাগান) ৩ গোল, রাজা মেমোরিয়াল শিল্ড, ৬ অগস্ট ১৯৩৭।
ভাইচুং ভুটিয়া (ইস্টবেঙ্গল) ৩ গোল, ফেডারেশন কাপ, ১৩ জুলাই ১৯৯৭।
চিডি এডে (মোহনবাগান) ৪ গোল, আই লিগ, ২৫ অক্টোবর ২০০৯

আগামীকাল রেকর্ড সংখক উপস্থিতি হতে পারে আসা করছেন উভয় ক্লাব কর্মকর্তারা। কলকাতা পুলিশও তৈরি সামাল দিতে। অপেক্ষার কিছু প্রহর , তবুও অতীত আজ ভেসে বেড়ায়।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close