Analysis

আন্তর্জাতিক শক্তিধর দেশের কড়া নজরে এবার ভারত :একের পর এক বাতিল বৈঠক !

একের পর এক বিদেশী রাষ্ট্র নেতাদের সফর বাতিলের মুখে। প্রথমে বাংলা দেশ এর পর সম্ভবত জাপান। কোনদিকে এগাছে ভারত তার দিকে নজর রেখে চলেছে আন্তর্জাতিক মহল।

নিজস্ব সংবাদদাতা : যখন আসামের রাস্তায় আগুনযেলে সাধারনামানুষের মুখে উঠে আসছে “ক্যাব আমাক নালাগে… নালাগে! নালাগে! অর্থাৎ, আমাদের ক্যাব চাই না। চাই না, চাই নাস্লোগান।তখনি ঠিক বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই তাঁদের সফর বাতিল করেছেন।এরপর জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সফর নিয়েও সংশয়। এর কারণ তাঁর অসমেই আসার কথা রয়েছে।আর এই নিমন্ত্রণ করেছিল মোদী সরকারই অর্থাৎ ভারত সরকার ।ফলে প্রেস্টিজ কে সওয়াল , কিন্তু সেই সফরই বাতিল হতে চলেছে এবার যা জানা যাচ্ছে অসমর্থিত সূত্রে।

বর্তমানে অসমের বিস্তীর্ণ অংশে এখনও বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। আর সদ্য পাস্ হাওয়া বিতর্কিত এই বিলকে অসাংবিধানিক এবং অসমিয়াদের জাতিসত্তার বিরোধী আখ্যা দিয়ে পথে নেমেছেন স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, বিশিষ্ট মানুষজন এবং সাধারণ নাগরিকরা।আন্দোলনকারীরা জোরের সাথে দাবি তুলেছে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এই বিল, কোনও অবস্থাতেই এই বিল অসমে লাগু করা যাবে না। অসমের সমস্ত স্কুল এই পরিস্থিতি ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হচ্ছে।রাজ্য সভায় বিল পাশের খবর আসতেই আন্দোলনকারীদের তরফে একের পর এক হামলা চলেছে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনয়াল সহ সেখানকার একাধিক বিজেপি নেতা, মন্ত্রী এবং বিধায়কের বাড়িতে।ডিজির গাড়িতে ভেঙে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে অসমের।

স্লোগানেই জমজমাট উত্তর-পূর্ব ভারতের একটা বড় অংশ এখন এই ।স্বতঃস্পুর্ত প্রতিবাদের ভাষা অনেক সময়েই কোনও পূর্বসূচি ছাড়াই তৈরি হয়েছে । আর এই আন্দোলনের প্রক্রিয়াও তৈরি করে নিয়েছে নিজেরাই।সাধারণের মুখে মেখে ঘুরছে স্লোগান, আর তা ছাপিয়ে হয়েছে সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা। “ক্যাব আমাক নালাগে… নালাগে!”

বড়দিনের উৎসব আর কয়েকদিন পেরোলেই খ্রিস্টমাস। আর এই উৎসবের মরসুম এক ডোম মলিন হয়ে উঠেছে আসাম জুড়ে। ভারতের উত্তর-পূর্বে বিগত দিনের সময়ের অনুযায়ী সেজে ওঠার কথা ছিল আলোয়, রঙে, গানে।কিন্তু হাজার রকমের স্থানীয় পার্বণ উদযাপন করতে পথে নামার কথা ছিল হাসিখুশি মানুষের। আর এই নিত্য অবস্থানের একেবারেই পরিবর্তন হয়ে গেছে বর্তমানের CAB বিলকে নিয়ে।পাশাপাশি এই অশান্তির আঁচ পৌঁছে গেছে মেঘালয়, শিলংয়ে। তারই সাথে উত্তর-পূর্ব ভারতের বড় অংশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে।

কেন্দ্র সরকারের নির্দেশে গোটা এলাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। নেমেছে সেনা, চলছে রুটমার্চ ।আতঙ্ক আর অশান্তি নিত্য বিষয় আসাম জুড়ে। আর এই বড় দিনের উৎসবে একসময়ে দোকানবাজারে জমজমাট ছিল যে এলাকাগুলি,আর সেই জায়গার যেখানে সেখানে পড়ে রয়েছে টিয়ারগ্যাসের ফাঁকা শেল, বাঁশ, পোড়া ছাই। আলী গলি একদম ফাঁকা ,মাঝে মাঝে গোষ্ঠী বদ্ধভাবে বেরিয়ে আসছে মিচি তাতেই ভেসে উঠছে “জয় জয় অসম” স্লোগান।

গত কয়েক দিনে উত্তপ্ত আসামে খন্ড যুদ্ধ বারংবার হয়েছে , পুলিশের গুলিতে বৃহস্পতিবার তিন জন আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যাচ্ছে গুয়াহাটির লাসিতনগরে গুলি চালানোয় মৃত্যু হয় দীপাজ্জ্বল দাসের। সরকারি কর্মী ছিলেন , কাজ করতেন তিনি গুয়াহাটির সৈনিক ভবনের ক্যান্টিনে। আর এই নিহত যুবকের বাড়ি অসমের ছয়গ্রামে।

বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীরা টানা পাথর ছু়ড়তে শুরু করলে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ, আর এই ঘটনাটি ঘটে গুয়াহাটিরই হাতিগাঁও এলাকার শঙ্করপথ অঞ্চলে । আর েসি সময়ই এক আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়। এর পর গুয়াহাটিরই নতুন বাজারে তৃতীয় বার গুলি চালানো হয়েছে । সরকারিভাবে এখনো জানা যায়নি ওই গুলিতে মৃত ব্যক্তির পরিচয়। অন্তত দশ হাজার মানুষ বুধবার রাত থেকেই গুয়াহাটির রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন ।এই আন্দোলনকারীরা নিজেদের হাত কেটে রক্ত দিয়ে পোস্টার লিখে স্লোগান তোলেন ছাত্রছাত্রীরা।এর পর রাজধানী দিসপুরের সচিবালয়ের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে ফেলেন প্রতিবাদীরা। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি বাগে আনার জন্য সেনা মোতায়েন করা হয়।প্রথমে জোরহাটেও সেনা মোতায়েন করা হয়। এর পর ডিব্রুগড়ে জারি হয় ১৪৪ ধারা ঘোষণা করা হয়। তারপরই সরকারি ঘোষণা করা হয় যে কোন ধরণের মিছিল মিটিং সভা করা যাবে না।

এই অবস্থায় অসমের অন্তত ১০টি জেলায় আরও ৪৮ ঘণ্টা ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে। সোশ্যাল মিডিয়াতে রাস্তায় আগুন জ্বলছে এই ভিডিও দেখে সাধারণ মানুষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠেন ও বিভিন্ন্য জায়গায় মানুষ রাস্তায় নেমে পরে দলে দলে। এর ফলে গুজব রুখতে বুধবার ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল রাজ্য প্রশাসন কেন্দ্র পরামর্শ অনুযায়ী। অন্য দিকে অসমের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তারা বৈঠক করেন নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে।সকল সরকার কর্মীদের ছুটি বাতিলের নির্দেশিকা জারি হয়েছে। বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।এর পড়িই আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব দেওয়া হোক সেনাবাহিনীকেই।

উত্তপ্ত এলাকা গুলিতে জারি হয়েছে কার্ফু। পণ্য পরিবহনের গাড়ি সেভাবে বলতে পারছেনা। তার ফলে নিত্য বাজারে ফাটকা কারবারের প্রবণতা শুরু হয়েছে। তার ফলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, রসদ ফুরিয়ে আসছে এবার। অতয়েব খেতে না পেয়ে মরতে হবে শীতে।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close