Nation

আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার রাজধানী, চুপ করে রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

একের পর এক কারখানা পুড়ে চাই হয়ে যাচ্ছে, প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ ! তাও নেওয়া হচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ, দেওয়া হচ্ছে না কোনো রকম নিরাপত্তা।

@ দেবশ্রী : অগ্নিকান্ড যেন লেগেই রয়েছে দিল্লিতে। কোনো না কোনো কারখানা পুড়ছে। কখনও জুতো, ব্যাগ তৈরির কারখানা, কখনও কাপড়ের গুদাম, কখনও সবজি মন্ডি, কিছুই যেন বাকি থাকছে না। আবারও ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটে গেল মঙ্গলবার সাত সকালে। আগুন লাগে, উত্তর-পশ্চিম দিল্লির একটি জুতো তৈরির কারখানায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে ২৬টি ইঞ্জিন, তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দমকল সূত্রে জানা যায়, কারখানায় প্রচুর দাহ্য বস্তু থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। লরেন্স রোডের ওই জুতো তৈরি কারখানায় অগ্নি নির্বাপণের কোনও পাকাপোক্ত ব্যবস্থাই ছিল না বলে জানিয়েছেন দমকলকর্মীরা। প্রথমে ভোররাতে কারখানার একটি অংশে আগুন লাগে। সেই আগুন ছড়াতে শুরু করে দ্রুত। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই গোটা কারখানায় আগুন বিধ্বংসী চেহারা ধারণ করে।

দমকলকর্মীরা জানিয়েছেন, ঘিঞ্জি এলাকার ওই কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যথেষ্ট সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ঘটনাস্থলে রয়েছে দমকলের ২৬টি ইঞ্জিন। প্রয়োজনে আরও ইঞ্জিন চেয়ে পাঠানো হবে। বিকট ধোঁয়ার কারণে ভেতরে ঢোকাও সম্ভব হচ্ছে না কারোর পক্ষে। কারখানার ভেতরে কেউ আটকে পড়েছেন কিনা সে খবরও এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

কিছুদিন আগেই দিল্লির হরি নগর এলাকায় একটি জুতো তৈরির কারখানায় আগুন লেগে দু’জন গুরুতর জখম হয়েছিলেন। পশ্চিম দিল্লির উদ্যোগনগরে পিরাগারহির একটি কারখানা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ক’দিন আগেই। কারখানায় মজুত প্রচুর পরিমাণ দাহ্য বস্তুর কারণে আগুন বিধ্বংসী চেহারা নেয়। ভেঙে পড়ে কারখানার একটি অংশ। ধ্বংসস্তুপের মধ্যে আটকে পড়েছিলেন দমকলকর্মীরাও।

গত বছর ডিসেম্বরেই বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গেছে দিল্লিতে। পশ্চিম দিল্লির মুন্ডকা এলাকায় ভয়াবহ আগুন লাগে একটি প্লাইউডের কারখানায়। উত্তর-পশ্চিম দিল্লির কিরারা এলাকায় একটি কাপড়ের গুদামে আগুন লেগে মৃত্যু হয় ৯ জনের, আহত হন ১০ জন। তার আগে দিল্লির রানি ঝাঁসি রোডের আনাজ মান্ডি এলাকার চারতলা বাড়ির তিনতলায় আগুন লাগে। সেই সময় বাড়ির ভিতরে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ছিলেন শ্রমিকরা। ব্যাগ, জুতো তৈরির ওই কারখানায় প্লাস্টিক, রেক্সিনের মতো দাহ্য বস্তু জমা করা ছিল প্রচুর পরিমাণে। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে তিনতলা ও চারতলায়। দরজা, জানলা বন্ধ থাকার কারণে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেননি অধিকাংশই। ঝলসে যান অন্তত ৬৩ জন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁদের মধ্যে মৃত্যু হয় ৪৩ জনের। পুলিশ ও দমকল বাহিনীর কর্তারা জানিয়েছেন, কারখানার ভিতরে বিদ্যুতের লাইনে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগে যায়। তারপর দাহ্য বস্তু থেকে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার মালিক রেহান ও ম্যানেজার ফুরকানকে গ্রেফতার করা হয়।

এত গুলি ঘটনা মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ঘটে যাওয়ার পরেও,কোনো রকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছে না কারখানা গুলি। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারনে প্রাণ হারাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কিন্তু কেন এই গাফিলতি বারবার ঘটছে ? কেন নেওয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা। কেন প্রত্যেকটি কারখানার নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না ? কেন চুপ রয়েছে প্রশাসন ? আর কেনই বা এইভাবে পরপর দিল্লির সব কারখানাতে ঘটে চলেছে অগ্নিকান্ড ? উত্তর দিচ্ছে না কেউ, নিচ্ছে না কেউ কোন পদক্ষেপ। কেবল প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের !

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close