Analysis

আম্ফানে CESC বিদ্ধস্থ , বিকল পরিষেবা। নাকাল শহর বাসী : নিরব রাজ্য প্রশাসন

৭২ ঘন্টা অন্ধকার কোলকাতার ৮০ % অঞ্চল , CESC অফিসাররা ফোন ধরছেন না , পুলিশের হুমকি আর মানছে না আমপাব্লিক !

নিজস্ব সংবাদদাতা : ৭৩ ঘন্টা পেরিয়েছে আম্ফানের দুর্যোগ , সরকারের যুক্তি তীব্র গরমে আর কেও মানতে পারছেন না। তাই একেবারে রাস্তায় নেমে এসেছেন। কলকাতার ১ থেকে ১৪৪ নম্বর বোর্ডের মধ্যে কম বেশি ৯৩ টি ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ নেই, তাও হয়েগেল ৭২ ঘন্টা। তবে এই কান্ড নামগোত্র দেখে হয়নি। যেখানে গাছ পড়েছে সেখানেই এই কান্ড টি ঘটেছে।

শহরে বিদ্যুৎ শুধু যে এল হাওয়ার ব্যবস্থা করে তা নয় শহরের মানুষের কাছে আরো বড় ব্যাপার সেটা হল জলের ব্যবস্থা করা। পাম্পের জল না পেলে বিকল হয়ে পরে শহরের মাথা উঁচু করে থাকা সভ্যতা। এরই মাঝে বর্তমানে সংখ্যাটা কমে গেলেও বস্তিবাসী নেহাতই কম নয়। তবে তাদের সমস্যা হল পাম্পের জল নয় , এদের সমস্যা হল আলো , পাখা আর সঙ্গে বিনোদনের ছোট ঘর।

ফলে পাম্প চলছে না। জল নেই, তিন দিন হয়ে গেল বিদ্যুত্ নেই। হাঁসফাঁস দশা উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার অনেক গুলো এলাকায়। অতিষ্ঠ মানুষজন শনিবার সকাল থেকে নেমে এলেন রাস্তায়। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে বিক্ষোভ-অবরোধ। প্রথম দিকে নেতাদের আশ্বাস কাজে আসছিল , কিন্তু বেলা গড়াতে গড়াতেই অবস্থার বদল হয়। এর পর চোখ রাঙানি আর কাজে এলো না। তৃণমূলের অনেক নেতাই আর এসব ভালো লাগছেনা বলে পিঠ টান দিয়েছেন বলে অভিযোগ। যেমন ১২০ নম্বরের পৌরপ্রতিনিধি সুশান্ত ঘোষ ২ দিন যাবৎ মানুষের কাছে যাচ্ছেন না। তিনি রেগে গিয়ে বললেন”আমার এই সব ভোট আর দরকার নেই “, এমনি অভিযোগ উঠে আসছে।

আম্ফানের তাণ্ডবের পর শহর থেকে জেলায় সরকারের মুখ পুড়েছে বললেই চলে। ঘটা করে প্রতি বছর বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য বাজেট বরাদ্ধ করে , কিন্তু এই বিপদের দিনে কোন কাজই শুরু করতে পারলেন না। অন্য দিকে দক্ষিণ কলকাতায় বেহালা, টালিগঞ্জ, যাদবপুর, গড়িয়া এবং ইএম বাইপাস সংলগ্ন বহু এলাকায় এখনও বিদ্যুত্ ফিরে আসেনি। অবিলম্বে জল আর বিদ্যুতের দাবিতে, করোনা আতঙ্ক ভুলে গিয়েই, মানুষজন ভিড় করে পথে নেমে আসেন সকাল থেকে।

CESC এর আধিকারিক সুব্রত আড্ডি এর সাথে ওপিনিয়ন টাইমস এর পক্ষথেকে যোগাযোগ করলে প্রথমে ফোন ধরেন নি , পরে WhatsApp text করলে বলেন “রেস্ট্ররেশন ফরোয়ার্ডেড “. গতকালের এই যোগাযোগের পর আজ সকালে WhatsApp ফোন করলে বলেন আমাদের লোক নেই। কাজ করবো কি ভাবে ? তখন মোতিলাল গুপ্ত রোডের কলকাতা -৮ এর পক্ষ থেকে বাসিন্দারা বলেন যত লোক লাগবে তত লোকের যোগান আমরা দেব। এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এর পর তিনি আর ফোন ধরেন নি। এটা যদি একটা ঘটনা হয় তাহলে সমগ্র কলকাতা মিলিয়ে অভিযোগের সমাধানে এই বিপর্যয় মোকাবিলায় পরাস্থ হয়েছে CESC আপাতত।

আর এই ক্ষেত্র ধরেই , ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে পড়া গাছপালা- বাঁশ তুলে এনে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে অনেক জায়গাতেই। ফলে যান চলাচলে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ কলকাতায়। ফোনের নেটওয়ার্কেরও বেহাল অবস্থা। এক দিকে জল-বিদ্যুত্ নেই, তার উপর মোবাইলে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কলকাতা পুরসভার প্রশাসকমন্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম আশ্বাস দিয়েছেন, কাল, রবিবারের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।কিন্তু তৃণমূলের পৌর প্রতিনিধিদের আচরণ অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ মেনে নিতে পারেন নি।

প্রশাসনের দেখা নেই ,যত ক্ষণ না পর্যন্ত বিদ্যুত্ পাচ্ছি, অবরোধ উঠবে না। এই অবস্থান নিয়ে যাদবপুর থেকে কসবার সাঁপুইপাড়াতে অবরোধ শুরু হয়। এর ফলে বাইপাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাগাছ ফেলে অবরোধ শুরু করছেন । তাঁদের অভিযোগ, “। আমরা জল চাইছি, পুলিশ আমাদের মারছে, আমরা বিদ্যুতের ব্যাপারে কথা বলতে গেলে পুলিশ তেড়ে আসছে।

বেহালার বকুলতলা থেকে চৌরাস্তা আবার শকুন্তলা থেকে ডাকঘর পর্যন্ত একমাত্র এই রাস্তায় বিপর্যস্ত যানচলাচল। লম্বা লাইন রয়েছে গাড়ির । পুলিশকে ঘিরেও চলছে বিক্ষোভ চলছে জল-বিদ্যুতের দাবিতে । এই বিক্ষোভের সামনে কোন তৃণমূল নেতাকে সেভাবে দেখা যাই নি বললেই চলে। পাশাপাশি গড়িয়া অবরোধ হয়েছে দীর্ঘ সময় , এর ফলে বাইপাস অবরোধ। তেমনই বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ উত্তর কলকাতা জুড়েও রয়েছে। বেলেঘাটা , জোড়ামন্দির , থেকে বাইপাস। অপর দিকে উল্টোডাঙা থেকে মানিকতলা বেশ অনেকটা জায়গা জুড়ে বিক্ষিপ্ত সমস্যা রয়েছে জল ও বিদ্যুতের। সব মিলিয়ে আম্ফানে নাকাল সরকার থেকে পৌরসভা , মানুষ আস্থা হারাচ্ছে সরকারের প্রতি।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close