Analysis

কৌশল কাজে আসছে না : বিক্ষোভের মুখে সরকার যুক্তি গ্রহণ যোগ্য হচ্ছে না !

দলীয় পরিকল্পনা বাস্তবে রুপদিতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে , আশঙ্খা CAA এর প্রক্রিয়া যত এগোবে তত নাগরিক সমর্থন হারিয়ে যাবে,তার ফল হাতে নাতে পাওয়া গেল ঝাড়খণ্ডে। এন ডি এ থেকে সম্পর্ক ত্যাগ করছে আবার অকালি দল।

নগর কীর্তন : প্রধান মন্ত্রীর আশ্বাস বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ভাষণ কোন কিছুই যুক্তি যুক্তি হচ্ছে ভারত বাসীর। দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও চর্চার মূল কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতবর্ষে এই সংশোধিত নতুন আইন। সুদূর জার্মানিতে দেখা গেছে ভারতীয়দের মিছিল সাথে পা মিলিয়েছেন সে দেশের যুক্তিবাদী মানুষ। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও টুইটে তির্যক মন্তব্যের মুখে দাঁড়িয়ে মোদী সরকার।

পাশাপাশি এন ডি এ ছেড়ে চলে যাচ্ছে বিহু দিনের সাথী শিরোমণি অকালি দল।তার ফলে দলের প্রবীণ নেতা যারা যারা একঘরে শেষের ৬ বছর তারাও বড় বিতর্কে যোগদিয়েছেন আড়ালে আবডালে। আরএসএসের এই নীতিকে মূল এজেন্ডা করে ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোট জিতে আসার পর এই নাগরিক সংশোধনী আইনকে কেন্দ্র করে বিপুল বিরোধিতায় পড়বেন তা কোন বিশেষজ্ঞই ভাবেন নি।এর ফলে কোন যুক্তিই কাজে আসছে না।বিপক্ষের সওয়াল ২০০৩ সালে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের ধারায় বলা রয়েছে, এনপিআর হল এনআরসির প্রথম ধাপ। তার ফলে সরকারের মুখের ভরসা সাধারণ মানুষ থেকে বিরোধীরা কেওই বিশ্বাস করছেন না।

অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকার নাগরিকত্ব আইন (১৯৫৫)-এর একটি ধারায় সংশোধনী আনেন ২০০৩ সালে।এর ফলেই নাগরিকের মাথা গুনে জাতীয় জনসংখ্যা রেজিস্টার (ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার) তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে যে-সব নাগরিকের নাম এনপিআর তালিকায় থাকবে না, তাদের ভিবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন সকলেই। কারা এ দেশের নাগরিক কি না, সেটা নির্ভর করবে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। যথাযত প্রমাণিত হলে নাম উঠবে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা সর্বভারতীয় এনআরসি-তে। তারফলে অসমে ভয়ানক অবস্থানের স্বীকার।যদিও বিতর্কের মাঝে অসমে এনআরসি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে।আর এই আইনে বলা হয়েছে, যাঁদের নাম এনআরসি-তে থাকবে, তারাই হলেন নাগরিক । লিস্ট অনুযায়ী নতুন নাগরিকদের কার্ড দেওয়া হবে । আইনের পরিবর্তন ঘটিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত কে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে বিপদের মধ্যে পড়েছে সমগ্র বিজেপি।

ধরা যাক তর্কের খাতিরে এই আইন আপাতত যদি সার্বিক চাপে বন্ধ রাখা হয় তাহলে কি বিতর্ক থিম যাবে , রাস্তার আন্দোলন কি থেমে যাবে।না বিরোধীরা সংসদ থেকে টিভির আলোচনায় এই বিতর্ক তুলে আনবেন না। আসলে চাপা আগুন পুনরায় উস্কে দিয়ে যে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার কথা ছিল তার ধরে কাছে যাচ্ছে না বিজেপি। সংবিধানের কোথাও উল্লেখ নেই যে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হয়েছে বা ধর্মের ভিত্তিতে ভারতের সংবিধান তৈরি হয়েছে। এন আর পি করে এনআরসি-র রাস্তাই খুলে রাখতে চাইছে সরকার।সরকারি ভাবে না বললেও নেতা নেত্রীরা বলছেন দু’টির সম্পর্ক নেই।কিন্তু বাদ সাজছে ২০০৩-এর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (১৯৫৫)-এরই অন্য একটি ধারায় সংশোধনী এনে নয়া নাগরিকত্ব আইন (২০১৯) বা সিএএ তৈরি হয়েছে।২০০৩ সালের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (১৯৫৫) কে সামনে রেখেই এই বিতর্ক দেশময়।

সাধারণ মানুষের ধারণা : ১) প্রথম ধাপ: এনপিআর হবে।

২) দ্বিতীয় ধাপ: এনপিআর তালিকার ভিত্তিতে হবে নাগরিকত্ব যাচাই।

৩) তৃতীয় ধাপ: নাগরিক প্রমাণে নাম উঠবে এনআরসি-তে। তবেই পাবেন সিটিজেনশিপ কার্ড।

মোদী-শাহ এনআরসি-র বিষয়টি নিয়ে নরম কথা বলছেন সময় কে সামলানোর জন্য । এরই সাথে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ অথবা স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু একাধিক বার সংসদে ও সংসদের জোর সওয়াল করেছেন , এনপিআর হল এনআরসি-র ভিত্তিপ্রস্তর, এছাড়াও সরকারি ভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বার্ষিক রিপোর্টেও প্রকাশ পেয়েছে। তার ফলে আগামীতে দেশে নাগরিকদের সমর্থন হারাতে পারেন এই আতঙ্ক থেকে।

অন্য দিকে তিনদিন আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর সরকারিভাবে ঘোষণা করেন , এনপিআর-এ যে-তথ্য চাওয়া হবে সেটা বাধ্যতা মূলক নয় । তথ্য পঞ্জির জন্য চাওয়া হবে নাগরিকরা ইচ্ছা করলে দেবেন , আর না ইচ্ছা করলে দেবেন না। কিন্তু ২০০৩ সালের আইনের বলা রয়েছে, এনপিআর তে কোন সন্দেহ প্রকাশ হলে সেই বেক্তিকে সন্দেহজনক নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন।এই ক্ষেত্রে কোন কথাটা বিশ্বাস করবেন এই ধন্ধে নাগরিকরা রাস্তার আন্দোলনে দলে দলে যুক্ত হচ্ছে , এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্রের দাবি, এনপিআর তালিকার ভিত্তিতে কোনও সন্দেহজনক নাগরিকের তালিকা তৈরি হবে না।

মন্ত্রী জাভড়েকর সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন এনপিআর-এ ব্যক্তিগত তথ্যের সপক্ষে প্রমাণ দিতে হবে না ।সরকারি কাগজে এনপিআর এর বিধি বলছে , যদি পরিবারের প্রধান ভুল তথ্য দিলে এক হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। এটাও কি সত্যি তাহলে ” তথ্য যাচাই না-করলে ভুল ধরা হবে কী করে? সরকারের দাবি মোতাবেক যদি কোনও নথি না-ই লাগে, কিসের ভিত্তিতে তথ্য যাচাই হবে? ” সব মিলিয়ে লাভের লাভ বিপক্ষের রাজনীতি তলানিতে এসে ঠেকলেও ভোটের পরে , বর্তমানে এই ইস্যুতে বেশ নড়িয়ে দিয়েছে বিজেপির ভীত।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close