Education Opinion

ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণতায় বেসামাল পড়ুয়ারা !

নেট ও বিদ্যুৎ পরিষেবার দুর্বলতায় বন্ধ অনলাইন ক্লাস, ফলে চাপ পড়বে পড়ুয়াদের ওপর

পল্লবী : একেই প্রায় ২ মাস হতে চললো বন্ধ স্কুল, কলেজ এবং তার ফলেই কার্যত বন্ধ পড়াশোনা। তবে সিলেবাস যে শেষ করতেই হবে আর তার জন্যই চলছিল অনলাইনে ক্লাস। কিন্তু সেটিও এবার বন্ধ হয়ে গেলো। শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, অনলাইন ক্লাস বন্ধ হওয়ায় সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা সামনের বছর মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বা আইসিএসই, সিবিএসই-র বোর্ডের পরীক্ষা দেবে। আমপানের তাণ্ডবের পরে বহু জায়গায় মোবাইল ফোনের পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ। অধিকাংশ এলাকায় নেট সংযোগ প্রায় নেই, ফলে চরম বিপাকে পড়েছে পড়ুয়ারা।

এই বিষয় নিয়ে অনেক পড়ুয়া জানাচ্ছে, নেট সংযোগ মাঝে মধ্যে আসছে। কিন্তু টানা বিদ্যুত্‍ বিপর্যয়ে ফোন ও ল্যাপটপ চার্জ করা যাচ্ছে না। দুজন ছাত্র সরাসরি জানিয়েছে নদিয়ার কল্যাণীর এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র কিংশুক বিশ্বাস বলে, ”সামনের বছর উচ্চ মাধ্যমিক। খুব দরকার ছিল অনলাইন ক্লাসের।” দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের নবম শ্রেণির ছাত্র অনিমেষ বসু বলে, ”লকডাউনে অনলাইন ক্লাসই ভরসা ছিল।”

অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের শিক্ষক সংগঠনের নেতা কিঙ্কর অধিকারী জানাচ্ছেন, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনলাইনে পড়ানোর প্রশ্নই নেই। ঝড়ের পরে ছাত্রদের সঙ্গে ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ঘূর্ণিঝড়ের পরে তারা কেমন আছে, তাদের বাড়ি ঘর ঠিক আছে কিনা, সেটাই জানতে পারছেন না শিক্ষকরা। দক্ষিণ কলকাতার রামমোহন মিশন হাই স্কুলের শিক্ষক সুজয় বিশ্বাস বলেন, ”ছাত্রদের খুব ক্ষতি হচ্ছে। অনেক শিক্ষকের বাড়িতেও বিদ্যুত্‍ নেই। নেট সংযোগ নেই। কত দিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, সে দিকে তাকিয়ে আছি।”

শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী সকলেই পড়েছেন বিপদে। এই সামান্য টুকু ভরসাও রইলো না। এর ফলে চাপ পড়বে ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর। তবে উঁচু ক্লাসের সমস্ত পড়ুয়াদের চিন্তা বাড়লেও। এই পরিস্থিতিতে চিন্তা কমলো ক্ষুদেদের। একেই সকাল বেলা ঘুম থেকে মা বাবার বকুনি শুনে যেতে হতো স্কুলে। লকডাউনে সেটি বন্ধ হলেও চলছিল পড়াশোনা না পড়তে বসলেই বোড়োদের বকুনি সাথে ম্যাম তো আছেই। তবে এবার নেট পরিষেবা তাদের একটু হলেও বাঁচাতে পারবে সেই বকুনি থেকে !

পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও ওপিনিয়ন টাইমস এর যৌথ্য উদ্যোগে ” যদিও লকডাউন তবুও পড়াশুনা ” সোম থেকে শুক্র সকাল ৯ টার সময় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লক্ষ্য লক্ষ্য শিক্ষার্থীরা উপকৃত হচ্ছিল। আর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন রাজ্যের সব থেকে নামি স্কুলের নামি শিক্ষক শিক্ষিকারা প্রতি দিন সোম থেকে শুক্র সকাল ৯ টায় । তার ফলে ছাত্র ছাত্রীরা লকডাউনের মধ্যেও নিজেদের পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আম্ফানের ফলে রাজ্য জুড়ে নেট ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার ফলে পড়াশুনা প্রায় লাটে উঠেছে। এই সম্প্রচার দ্রুততার সঙ্গে শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন সৌগত বসু , সাধারণ সম্পাদক “পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি”

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close