Big Story

চলে গেলেন অভীক দত্ত : রাজ্যের বাম আন্দোলনের বড় ক্ষতি !

স্বল্প কথার মানুষ অভীক বাবু , ধৈয্যের পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ বড় কুশলী বন্ধু পরায়ণ স্নেহশীল মানুষ ছিলেন। ৩৪ এর বহু যুদ্ধের বিশ্বস্ত সৈনিক এর বিদায়ে সংবাদ জগৎ থেকে রাজনীতির সুস্থ চিন্তার বড় ক্ষতি হল।

সুবীর দে , এডিটর আউটপুট : ২০১৮ সালে ২রা ডিসেম্বর দমদম নাগেরবাজারে পার্টির একটি পাঠচক্রে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি৷ সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়৷পরে রাতে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় মল্লিকবাজারের ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সে। ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল৷ চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন , অভীক দত্তের সেরিব্রাল স্ট্রোক হয়েছে৷ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ দেখা দিয়েছিল ৷ অভীকবাবুর শারীরিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ছিল বলে হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছিল৷কিন্তু সব যুদ্ধ থামিয়ে দিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অভীক দত্ত।অভীক দত্তের বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৮ বছর। তার পরিবারে তার স্ত্রী ও একমাত্র পুত্র আছেন।

২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি,‘গণশক্তি’র নতুন সম্পাদক পদে যোগ দেন অভীক দত্ত। এর আগে তিনি পত্রিকার সহ-সম্পাদক ছিলেন। বিদায়ী সম্পাদক নারায়ণ দত্তর স্থলাভিষিক্ত হন অভীক দত্ত। তথ্য বলছে, ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ‘গণশক্তি’র সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন অনিল বিশ্বাস৷ পরে দীপেন ঘোষ ও নারায়ণ দত্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন৷ বর্তমানে অভীক দত্ত ‘গণশক্তি’র সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন৷ অভীকবাবু সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য৷ প্রথম থেকেই পার্টির পাশাপাশি ‘গণশক্তি’ পত্রিকার সঙ্গেও যুক্ত৷

অভিক দত্ত অসাধারণ মেধার মানুষ ছিলেন , শেষের ১৫ বছরে বহুবার যোগাযোগ হয়েছে। ২০১৬ বিধান সভা নির্বাচনের আগে অন্তত ১১ বার সাক্ষাৎ হয়েছে পেসার কারণে , কখনও বিরক্ত বা যুক্তির বাইরে কথা বলতে দেখি নি। মিষ্টভাষী , সদাযুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে কথা বলতেন অভীক বাবু। টেবিলে খাবার এলে আগে এগিয়ে দিয়ে বলতেন ঠান্ডা হয়ে যাবে আগে খেয়ে নাও , পরে কথা হবে। বিতর্কের শেষ রাখতেন না , যুক্তি দিয়ে তা সম্পূর্ণ করেই টেবিল ছাড়তেন। শেষের ৫ বছরের কাছের স্মৃতি আজ বড় বেদনা দায়ক।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close