Big Story

চাপের মুখে কি সমঝোতা : মোদী মমতার বৈঠক

বিকেল ৪টের বৈঠক , গুঞ্জন রাজ্য ময়। দেশের মন্দা অবস্থায় নিন্দার সামনে মোদী ,ওপর দিকে দিদি নিজের ইমেজ বাঁচাতে কলা-কৌশলের অন্ত নেই। সব মিলিয়ে আজ নজরে দিল্লি হচ্ছে তা কি ?

এক দিকে যখন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা হন্যে হয়ে খুঁজছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিয় আস্থা ভাজন রাজীব কুমার কে তখনি মোদী-মমতা বৈঠক নিয়ে জোর গুঞ্জন দেশে। ঠিক আড়াই বছর পর আবার মোদী দেবার মমতা। রাজ্যের আর্থিক অবস্থা তলানিতে ঠেকেছে , শিল্প নেই , বেকার যুবকদের কাজ নেই , সাধারণ মানুষের কাছে পয়সা নেই। অনেক শিল্প বন্ধের মুখে , রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার অবনতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। দলে ভেঙে অনেকেই এখন বিজেপিতে , প্রশাসনিক অবস্থাও ভালো নয়।
দলের অনেকেই বিশ্বাস না করে এনেছেন প্রশান্থ কিশোর কে আর এই সব মিলিয়ে রাজ্যে কোনঠাসা মমতা কি আলোচনা করতে পারেন তাই নিয়ে জল্পনার শেষ নেই।

ওপর দিকে নরেন্দ্র মোদীও প্রচারে অনেক এগিয়ে থাকলেও দেশের আর্থিক অবস্থা তলানিতে। ব্যাঙ্কের সংযুক্তি করণ , কয়েক লক্ষ্য কোটি টাকা NPA হয়ে আছে , বিগত দিনের আস্থা ভাজনরা সকলেই নাগালের বাইরে , দেশের কর্ম সংঠন তলানিতে এসে ঠেকেছে। বৃহত্তর শিল্পে বিপুল পরিমান কর্মী ছাটাই।PSU গুলো রক্ত হীনতায় ভুগছে, টাকা নেই আর সব টাকা প্রচারের ক্ষেত্রে বেরিয়ে পড়েছে। মানুষের সঞ্চয়ে শুধ কমে যাওয়া। সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের সুযোগ কমেছে , ব্যয় বেড়েছে। ফলে সার্বিক ভাবে বাজার অর্থনীতি শেষের ৩০ বছরে তলানিতে এসে দাঁড়িয়েছে। তাই রিসার্ভ ব্যাংকার তহবিলে হাত দিয়েছেন মোদী। যা নজির বিহীন অবস্থা বলেই দেশের ভাড়ার বাঁচাতে তৎপর কেন্দ্র। সব মিলিয়ে দুই নেতা প্রচারে যাই বলুক চাপে আছেন দিদি-মোদী সবাই।

মমতা বান্দ্যোপাধ্যায় যে আলোচনা তুলতে পারেন :
১) একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বরাদ্দ কমানোয় রাজ্যে মুখ থুবড়ে পড়ছে সেই প্রকল্পগুলি।আগে ১০ শতাংশ দিতে হত রাজ্যকে। এখন সেই বরাদ্দ কমিয়ে ৪০ শতাংশ করে দিয়েছে কেন্দ্র।কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে বরাদ্দ টাকার ৯০ শতাংশ দিত কেন্দ্র। ফলে বাকি ৬০ শতাংশ এখন রাজ্যকে দিতে হচ্ছে।

২) সার্বিক ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুশি নন ব্যাঙ্ক সংযুক্তি করণ। এর ফলে কলকাতায় হেডকোয়ার্টার রয়েছে এমন দুটি ব্যাঙ্ক (এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক ও ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক)-এর ক্ষেত্রেও সংযুক্তিকরণ ঘটানো হয়েছে। আর এই সংযুক্তিকরণের ফলে এই ব্যাঙ্ক দুটির হেডকোয়ার্টার কলকাতা থেকে সরে যাবে , মোদীর সাথে বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়েও কথা হবে মুখ্যমন্ত্রীর।

৩) রাজ্যে বিধান সভায় পক্ষ বিপক্ষ এক জায়গায় NRC নিয়ে। ওপর দিকে রাজ্য বিজেপি দাবি তুলেছে পশ্চিম বঙ্গে NRC হবে , আর এই নিয়ে অসমে চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ হওয়ার পরই পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি-। আর এই ইস্যু তে বাম কংগ্রেস ও টিএমসি একই জায়গায় অবস্থান করছে।

৪) রাজ্যের আর্থিক অবস্থা বেহাল , ইমেজ বাঁচাতে বহু টাকা খরচ হয়ে যাবার ফলে ঋণের পরিমান শেষের ৮ বছরে আকাশ ছুঁয়েছে।রাজ্যে কোন বাস্তবে শিল্প আসে নি তার ওপর বিরোধীরা এক জোট হতে শুরু করেছে। ফলে সাঁড়াশি আক্রমণের বিকল্প খুঁজতে আর্থিক প্যাকেজই এক মাত্র সঞ্জীবনী ওষধি হিসেবে কাজ করতে পারে। তার কারণ বিভিন্ন আন্দোলনের ক্ষেত্রে অস্বীকারের পথ ছেড়ে মমতা এবার সমঝোতার পথে তাই অর্থ দরকার বিপুল পরিমান অর্থ এক মাত্র লোকও এবারের বৈঠকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পেশাল প্যাকেজের দাবি জানাতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।

৫) সিবিআই ও কেন্দ্রীয় তদন্ত কারী সংস্থার ক্ষেত্রে কিছু কথা হয়েই পারে , এক সময়ের NDA শরিকের জায়গা থেকে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন ‘সুপার এমারজেন্সি’-র জমানায় মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যা যা করতে হবে আমরা তা অবশ্যই করব।” উঠতে পারে রাজীব কুমারের কথা তবে তা একটু গোপনে।

সবমিলিয়ে আজকের বৈঠক কে সব পক্ষই নজরে রাখবে বলাই বাহুল্য। কংগ্রেস সিপিআইএমের ঘোষিত জোট হতে চলেছে , তৃণমূলের সংঘঠন ভাঙছে। ওপর পক্ষে রাজ্যে দিশা হীন বিজেপি নেতৃত্ব ও গোষ্ঠী দ্বন্ধ . তাই মানুষ খুশি নয়। ফলে তৃণমূল ও বিজেপির কাছে যে সমর্থন আছে তা যে কোন সময় চলে যেতে পারে বাম-কংগ্রেসের কাছে। তার ফলে উভয় সংকটে হতে পারে অনেক কিছুই।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close