Entertainment

দাদার কীর্তি ‘রয়ে যাবে : তাপস পাল চলে গেলেন !

মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সোমবার রাতে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন তাপস পাল। রাত ৩টে ৩৫ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা : তাপস পালের বাংলা চলচিত্রে ‘দাদার কীর্তি’ দিয়ে অভিনয়ে হাতেখড়ি হয় । এরপর ‘অনুরাগের ছোয়া’, ‘সুরের আকাশ’, ‘চোখের আলো’-সহ একাধিক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।
একটা সময় সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন , পরিচিত মুখ প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা আর এই সব কিছুই তৃণমূল কংগ্রেস কাজে লাগিয়েছিলেন রাজনৈতিক বিষয়ে।তাপস পালও অভিনয়ের পাশাপাশি এক সময় রাজনীতিতেও হাজির হন । কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। এরপর রোজভ্যালি কাণ্ডে নাম জড়িয়ে পড়ায়, একাধিক বিতর্কের মুখে পড়েন টলিউডের এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।

চিটফান্ড কাণ্ডে নাম জড়িয়ে পড়ে তাপস পালের। ওই ঘটনার পর আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের ততকালীন সাংসদ। চিটফান্ড কাণ্ডে তাপস পালের নাম জড়ানোর পর রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটান অভিনেতার স্ত্রী নন্দিনী পাল।সিবিআইয়ের কবজা থেকে মুক্তি পান তাপস পাল যদিও দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর শেষ পর্যন্ত ভুবনেশ্বেরে ফেরেন কলকাতায় । এর পর আর তাকে রাজনৈতিক মঞ্চে খুব একটা দেখা যায়নি ,ক্রমশ রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতে শুরু করেন তিনি।

‘সাহেব’ ছবির জন্য তিনি ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার পান। বাংলার পাশাপাশি তাপস পাল অভিনয় করেছেন হিন্দি ছবিতেও। মাধুরী দীক্ষিতের বিপরীতে অভিনয় করেন ‘অবোধ’ ছবিতে।মাত্র ২২ বছর বয়সে অভিনয় জগতে পা রাখেন। দাদার কীর্তি’ পর ‘গুরুদক্ষিণা’, ‘সাহেব’, ‘ভালবাসা ভালবাসা’ তাঁর হিট ছবিরগুলির মধ্যে অন্যতম। সূত্রের খবর, এ দিন ভোররাতে মুম্বইয়ের বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবার সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে স্নায়ুর রোগে ভুগছিলেন এই অভিনেতা। কথা বলা ও চলা-ফেরায় সমস্যা ছিল। ১ ফেব্রুয়ারি বান্দ্রার হাসপাতালে ভরতি হওয়ার পর থেকেই তিনি ভেন্টিলেশনে ছিলেন। ৬ ফেব্রুয়ারি ভেন্টিলেশন থেকে বের করা হয়।

তাপস পাল (২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫৮ – ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০) একজন বাঙালি অভিনেতা ছিলেন। জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। তিনি ২০০৯ সালের ভারতীয় সাধারণ নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে টিকেট নিয়ে নির্বাচিত হয়ে কৃষ্ণনগর থেকে এমপি হন। এর আগে, তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিধায়ক ছিলেন।

২০১৪ সালে, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্বাচনের কিছুদিন আগে একটি নির্বাচনী প্রচার সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে তাপস পাল বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই সভায় তিনি নিজেকে “চন্দননগরের মাল” বলে পরিচয় দেন এবং জানান যে তিনি পকেটে “মাল” নিয়ে ঘুরে বেড়ান। এছাড়া তিনি ছেলে পাঠিয়ে বিরোধী পক্ষের সমর্থকদের ধর্ষণ করে দেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। পরে এই নিয়ে বিতর্ক তৈরী হলে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।

পালের প্রথম সিনেমা আসে ১৯৮০ সালে, তরুণ মজুমদার পরিচালিত দাদার কীর্তি চলচ্চিত্রে। তিনি ভালোবাসা ভালোবাসা এবং গুরুর দক্ষিণা ইত্যাদি অন্যান্য অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।তাপস পাল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে হুগলী মহসিন কলেজ থেকে জীববিজ্ঞানে গ্রাজুয়েট করেন।

এক নজরে তাপস পালের চলচ্চিত্রের অভিনয়ের তালিকা :

দাদার কীর্তি , পরিচালক ছিলেন তরুণ মজুমদার। সুরের ভুবনে পরিচালক ছিলেন পবিত্র মিত্র। মায়া মমতা পরিচালক ছিলেন অঞ্জন চৌধুরী। সমাপ্তি পরিচালক ছিলেন বিনয় দাস। চোখের আলোয় পরিচালক ছিলেন সচিন অধিকারী। অন্তরঙ্গ পরিচালক ছিলেন দীনেন গুপ্ত। সাহেব পরিচালক ছিলেন বিনয় বসু। পার্বত প্রিয়া পরিচালক ছিলেন দীপাঞ্জনা বসু। অবোধ হিন্দি চলচিত্র পরিচালক ছিলেন হিরেন নাগ। বৈদুর্যের রহস্য পরিচালক ছিলেন তপন সিনহা। অনুরাগের ছোঁয়া পরিচালক ছিলেন জোহর বিশ্বাস। পথভোলা পরিচালক ছিলেন তরুণ মজুমদার। ভালোবাসা ভালোবাসা পরিচালক ছিলেন তরুণ মজুমদার। আশীর্বাদ পরিচালক ছিলেন বীরেশ চট্টোপাধ্যায়। গুরু দক্ষিনা পরিচালক ছিলেন অঞ্জন চৌধুরী। আগমন পরিচালক ছিলেন তরুণ মজুমদার। প্রতীক পরিচালক ছিলেন প্রভাত রায়। আপন আমার আপন পরিচালক ছিলেন তরুণ মজুমদার। বলিদান পরিচালক ছিলেন অনিল গাঙ্গুলী। পরশমণি পরিচালক ছিলেন তরুণ মজুমদার।সুরের আকাশে পরিচালক ছিলেন বীরেশ চ্যাটার্জী। নীলিমায় নীল পরিচালক ছিলেন বীরেশ চ্যাটার্জী। সংঘর্ষ পরিচালক ছিলেন হারানাথ চক্রবর্তী। উত্তরা পরিচালক ছিলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত।ঋণ মুক্তি পরিচালক ছিলেন দীনেন গুপ্ত। মন্দ মেয়ের উপাখ্যান পরিচালক ছিলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত।মায়ের আঁচল পরিচালক ছিলেন অনুপ সেনগুপ্ত। শুধু ভালোবাসা পরিচালক ছিলেন রাজ্ মুখার্জী। শিকার পরিচালক ছিলেন সারণ দত্ত। আই লোভ ইউ পরিচালক ছিলেন রবি কিনাগী। ৮ টা ৮এর বনগাঁ লোকাল পরিচালক ছিলেন দেবাদিত্য। চ্যালেঞ্জ ২ পরিচালক ছিলেন রাজা চান্দা। খিলাড়ি পরিচালক ছিলেন অশোক পাতি।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close