Nation

দুই জঙ্গিকে কাশ্মীরের বাইরে পাঠাতে গিয়ে ধরা পড়ে ডিএসপি দেবিন্দর, তাদের থেকে নিয়েছিল ২৪ লক্ষ টাকা।

দেশে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর হামলার পিছনে কারন হিসাবে নাম উঠছে দেবিন্দরের, উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

@ দেবশ্রী : পাক জঙ্গিদের ভারতে প্রবেশ করা ও তাদের ভারতে হামলা করার কথা নিয়ে বারবার জারি করা হচ্ছে সতর্কতা। তাদের ধরার জন্য করা হচ্ছে সবরকমের চেষ্টা। কিন্তু এর মধ্যেই ঘটে যায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা। শনিবার কাশ্মীরে ২ হিজবুল জঙ্গিকে গ্রেফতার এর সঙ্গে ডিএসপি দেবিন্দর সিং সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যাচ্ছে, শ্রীনগর বিমানবন্দরের অ্যান্টি হাইজ্যাকিং শাখায় কর্মরত দেবিন্দর ওই দুই জঙ্গিকে কাশ্মীরের বাইরে বের করে দেওয়ার জন্য নিয়েছিলেন বিপুল টাকা। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ দাবি করেন যে, সেই টাকার অঙ্ক জঙ্গিপিছু ১২ লাখ।

ঘটনার দিন কাশ্মীরের জওহর টালেন পার করার আগেই ধরা পড়েন দেবিন্দর। তাঁর দাবি, জঙ্গি নাভেদ বাবু ও রফিকে তিনি জম্মু নিয়ে যাচ্ছিলেন আত্মসমর্পণ করানোর জন্যে। কিন্তু দেবিন্দরের করা দাবিতে জল ঢেলে দেয় নাভেদ ও রফি। দেবীন্দ্রের সেই দাবির কথা অস্বীকার করেছে তারা।

নাভেদ হল উপত্যকার একজন মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি। একসময় কাশ্মীর পুলিশে কর্মরত নভেদ ২০১৭ সালে নিজের পুলিশের চাকরি ছেড়ে দিয়ে জঙ্গিদের সঙ্গে যোগ দেয়। সোপিয়ায় কুখ্যাত জঙ্গি রিয়াজ নাইকুর পর নাভেদই একমাত্র পরিচিত নাম। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের আগে ও পরে ভিন রাজ্যের ট্রাক চালক ও শ্রমিক হত্যার পেছনে তার হাত রয়েছে বলে কাশ্মীর পুলিশের দাবি।

অন্যদিকে অপর জঙ্গি রফি পেশায় একজন আইনজীবী। ভুয়ো কাগজপত্র তৈরি করে কাশ্মীরিদের দেশের বাইর বের করার ক্ষেত্রে তার নাম রয়েছে। মনে করা হচ্ছে জম্মু থেকে অন্য কোনও রাজ্যে গিয়ে সেই নাভেদের জন্যে ভুয়ো কাগজ তৈরির করে দিতো।

ডিএসপি দেবিন্দর সিংয়ের ওপরে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই নজর রেখেছিল পুলিশ। দেবিন্দরের ফোনে আড়ি পেতে দুই জঙ্গিকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা পুলিশ জানতে পারে। তারপরই দেবিন্দরের ওপরে নজর রাখতে শুরু করেছিল পুলিশ। ঘটনার আগের রাতে অর্থাৎ শুক্রবার রাতে তার ওপরে নজর রেখেছিল পুলিশ। সকালে দেবিন্দর বাড়ি থেকে বের হতেই তার পিছু নেওয়া হয়। তারপরেই তাকে হাতেনাতে ধরা হয়।

ডিএসপি দেবিন্দর সম্পর্কে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। প্রশ্ন উঠছে, দেবিন্দরের সঙ্গে ২০০১ সালে সংসদ হামলার কোনো প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল কী না ? ওই হামলায় ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আফজল গুরুর চিঠি থেকেই ওই মারাত্মক অভিযোগ উঠছে। দেবিন্দর সিং, আফজল গুরু মহম্মদ নামে এক পাকিস্তানি জঙ্গিকে দিল্লি নিয়ে যেতে বাধ্য করেছিলেন। শুধু তাই নয়, দিল্লিতে তাকে একটি বাড়ি ভাড়া করে দেওয়া ও গাড়ি কিনে দিতে বাধ্য করেছিলেন দেবিন্দর। এই মহম্মদ সংসদ হামলার রায়ে মারা যায়। আফজল গুরুর ওই চিঠি নিয়ে কোনও তদন্ত হয়নি। তবে এখন সেই হামলা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এর সাথে আরও কেউ জড়িয়ে রয়েছে কী না সেই বিষয়টিকেও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া আর কোনো কাণ্ডের সাথে ডিএসপি দেবিন্দর এর কোনো যোগ আছে কী না সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close