Nation

দুই দোষীর ফাঁসির রায় সংশোধনের আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট, লড়াই সম্পূর্ণ হতে চলেছে নির্ভয়া মামলার।

নির্ভয়া কাণ্ডে ফাঁসির রায় বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট, চারজনেরই হবে ফাঁসির সাজা।

@ দেবশ্রী : নির্ভয়া গণধর্ষণ মামলায় চার জন অপরাধীকে দেওয়া হয়েছিল ফাঁসির সাজা। আদালতে বলা হয়, আগামী ২২শে জানুয়ারি তাদের ফাঁসি হবে। কিন্তু সেই সময় সুই সাজা প্রাপ্ত অপরাধী ফাঁসির সাজার রায় সংশোধনের আর্জি (কিউরেটিভ পিটিশন) দায়ের করেছিলেন। আর আজ সেই মামলার শুনানি হয়। আর এই মামলায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামীর আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সেই আর্জি সোমবার খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে আইনি পথে মৃত্যুদণ্ড রদের আর কোনও বিকল্পই খোলা রইল না দোষীদের। এর পর এক মাত্র রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানাতে পারবেন তারা। তবে তা যদি তারা না করে, বা সেই আবেদন করার পরেও যদি তা খারিজ হয়, তাহলে আগামী ২২ শে জানুয়ারি ৪ দোষীর ফাঁসির সাজা কার্যকর করা হবে।

দিল্লির প্যারামেডিক্যাল ছাত্রী নির্ভয়াকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের দায়ে চার জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল নিম্ন আদালত। এরপর দিল্লি হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। এর পর রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ হয়। শেষ পর্যন্ত দিল্লির তিস হাজারি আদালত চার দোষীর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে দেন। নির্দেশ দেন ২২ জানুয়ারি সকাল সাতটায় তিহাড় জেলে তাদের ফাঁসি হবে। কিন্তু তারপর আবারও, দুই সাজাপ্রাপ্ত বিনয় শর্মা ও মুকেশ সিংহ সুপ্রিম কোর্ট রায় সংশোধনের আর্জি জানান। সেই আর্জির শুনানি হয় বিচারপতি এন ভি রামান্নার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে। তবে এই শুনানি, এজলাশের বদলে বিচারপতির চেম্বারে হয়। আর সেই আর্জিও বাতিল করে দেয় পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ।

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে তরুণী ও তাঁর বন্ধুকে লিফ্ট দেওয়ার নাম করে বাসে তোলে চালক-সহ ছ’জন। তার পর বাসের মধ্যে অকথ্য নির্যাতন ও গণধর্ষণ করা হয় তরুণীকে। তাঁর বন্ধুকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। দুষ্কর্মের পর তাঁদের চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। মৃত্যুর সাথে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত আর মানে নির্ভয়া। ঘটে তাঁর মৃত্যু। তারপরে ছ’জনকেই গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। তখন থেকেই নির্ভয়ার পরিবার চালিয়ে যাচ্ছে লড়াই, অপরাধীদের শাস্তির জন্যে।

এর মধ্যে বিচার চলাকালীনই দোষী রাম সিংহ তিহার জেলে আত্মহত্যা করেছিল। অন্য এক অভিযুক্ত সেই সময় নাবালক থাকায় তার বিচার হয়েছে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে। তিন বছরের সংশোধনের মেয়াদ শেষে সে ছাড়াও পেয়ে গিয়েছে। বাকি চার জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিল নিম্ন আদালত। এর এখন আগামী ২২শে জানুয়ারি ওই চার অপরাধীর ফাঁসি হবে।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close