Analysis

নতুন অঙ্ক পুরানো মুখ , হিসেবে বড় গোলমেলে : ছত্রধর আবার জঙ্গল মহলে !

মা ঠাকুমার আচারের বোতল তুলে রাখতো আড়ালে আবডালে , পাঁচ হাত যেন না পড়ে । কারণ ভাঁড়ারে যখন কিছু থাকবেনা তখন ওই আচারের তেলের গন্ধ দিয়ে কাঁচা লঙ্কা নিয়ে দুটো ভাত খাওয়া , জঙ্গল মহলে আবারো ছত্রধর প্রসঙ্গ খানিকটা ওই রকম !

২০০৪ থেকে যারা বাম বিপক্ষের সম্পদ ছিলেন তারা ২০০৬ থেকে তারা হলেন নয়নের মনি, ২০১১ তে পালা বদলে বদলিয়ে গেল সব হিসেব। লাল বাতির গাড়ী , সামনে পুলিশের জিপ সঙ্গে পুলিশ , পিছনে পুলিশের এসকর্ট সব যেন জাদু কাঠির ছোয়া তে ওলোটপালোট হয়ে গেল।একতরফা রাজনীতির মঞ্চে সব কিছু অসত্য হয়ে গেল , শুধু সত্য তিনিই । ২৯৪ এ একাই প্রার্থী , একটাই মুখ , একটাই পোস্ট বাকি সব সঙ্গে আছে।২০১১ থেকে পাইকারি হারে যুক্ত হয়েছে দলে, সেখানে আলু পটোলের একই দর। কিছু করার নেই, টিকে থাকতে গেলে গো ধরে বসে কোন লাভ নেই গোছের ভাবনা নিয়ে – অগত্যায় যোগ ।

২০১১ থেকে ২০১৫ কোন ভাবেই মনে হয় নি যে পুরানো খাতা খুলে আগের অঙ্ক গুলো একবার দেখতে হবে। কারণ ২০২১ এর পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র যে বড়ই কঠিন , ভোটার মহা গুরুকে উড়িয়ে নিয়ে আনা হয়েছে উর্তীন্ন হবার আশায়। কিছু করার নেই খুলতে হচ্ছে পুরানো খাতা। ডাকতে হবে সাজা প্রাপ্ত ছাত্রকে , এই কঠিন অঙ্কের সমাধান করতে।

ফলে দিন এগোচ্ছে যতই, পুরোনোদের ডাক পড়ছে। ভরসা পাচ্ছেন না চলতি নেতাদের কে।জেলা ভিত্তিক তালিকা তৈরী আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভেসে উঠতে পারে ২০০৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত সেই সব মানুষ যারা লড়াই করেছিল বামেদের সাথে মাঠে ময়দানে।আবারো পুরানো কাসুন্দি খাবারে ফেলে পুরানো আমলের ঝাঁঝ ফেরাতে চাইছেন তিঁনি।

বলা বাহুল্য দিন পরিবর্তন হয়েছে। বিপক্ষের জায়গায় হাত দিয়েছে বিজেপি আর অন্য দিকে বাম কংগ্রেস সমান তালে পাল্লা দিয়ে লড়াই করছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে । বামেদের রক্ত ক্ষরণ হলেও শারীরিক অবয়ব অনেক তাই পরিবর্তন করেছে। কংগ্রেস ভীষণ সংযত কিন্তু বামেদের সাথে জোট করতে প্রকাশ্যে সম্মতি না জানালেও আকার ইঙ্গিতে বুঝায়ে দিয়েছেন। হাঁটছেন অনেকটা রাস্তা , ওপর পক্ষে বিজেপি বেশ সাজিয়ে নিয়েছে নিজেদের। এদিক থেকে ওদিক থেকে কিছু প্লেয়ার কে নিয়েছে বিজেপি ।সব মিলিয়ে বাংলার অগ্নি কন্যা বেশ সংকটে।

এর ফলে ছত্রধর কে নিয়ে নতুন অঙ্ক বেশ সহজ হবে বলে মনে হয় না। একটি পত্রিকাকে সাক্ষরকার দিয়েছেন ছত্রধর , বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেই আবার মুখ্য মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান, আর একই কথা ২০১০ এ কৃষাণজী বলেছিলেন সাংবাদিকদের সাথে গোপনে , তিনি চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে।সেই পুরানো কথা অনেকেই ভুলে গেছে কিন্তু বর্তমানে এই অবস্থানে জেল থেকে ছাড়া পাবার পর ছত্রধর মাহাতো সরাসরি তৃণমূলের হয়ে কাজ করবেন না জনসাধারণের কমিটিকে পুনরায় জাগিয়ে তুলবেন নতুন আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে। সময়ের অপেক্ষা।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close