Big Story

নাগরিকত্ব বিলে অবস্থান বদল শিবসেনার।

প্রথমে সমালোচনার সংখ্যা আর তার পর, দিনের শেষে সমর্থন।

@ দেবশ্রী : দেশের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশের আগে হয় অনেক সমালোচনা। এক দল তা সমর্থন করে, কিন্তু আরেক দল তা মানতে নারাজ। ঠিক তেমনি সোমবার সকালে, শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’-র যে সংখ্যা প্রকাশিত হয়, সেখানে নাগরিকত্ব বিলের কড়া সমালোচনা করা হয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যে পের্ হতেই, রাতে লোকসভায় সেই বিলকেই সমর্থন জানায় শিবসেনা।

কিন্তু হটাৎ কেন এই অবস্থান বদল, তা জিজ্ঞাসা করায়, দলের তরফ থেকে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত। তিনি বলেন দেশের স্বার্থেই ওই বিলকে সমর্থন করা হয়েছে। ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছিল, নাগরিকত্ব বিল হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে ‘অদৃশ্য বিভাজন’ আনছে। পরে অরবিন্দ সাওয়ান্ত বলেন, ‘দেশের স্বার্থে আমরা বিলটিকে সমর্থন করেছি। অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচি কেবল মহারাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।’

একসময় কেন্দ্রে এনডিএ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন অরবিন্দ সাওয়ান্ত। শিবসেনার সঙ্গে বিজেপির জোট ভেঙে যাওয়ার পরে তিনি মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেন। পরে মতাদর্শগতভাবে ভিন্ন মেরুতে অবস্থিত কংগ্রেস ও এনসিপি-র সঙ্গে জোট করে শিবসেনা। তৈরি হয় এক অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচি। সোমবার লোকসভায় টানা ১২ ঘণ্টা তর্ক-বিতর্কের পরে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনী বিল পাশ হয়। বিলের পক্ষে পড়ে ৩১১ টি ভোট। বিপক্ষে পড়ে ৮০ টি।

বিরোধীরা বলেছিলেন, সংবিধানে যে সাম্যের কথা বলা হয়েছে, ওই বিল তার বিরোধী। অমিত শাহ এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত বিলটি ০.০০১ শতাংশও মুসলিম বিরোধী নয়। শেষ মুহূর্তে ওই বিলে সমর্থন করায় শিবসেনাকে ধন্যবাদ জানান সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি। তিনি বলেন, ‘শিবসেনা বুঝেছে, দেশের স্বার্থরক্ষার জন্য এই বিল পাশ হওয়া দরকার। আমি সব দলের কাছেই আবেদন জানাচ্ছি, বিলটি সমর্থন করুন।’ তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, মহারাষ্ট্রে কি শিবসেনার এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, সেকথা শিবসেনাকেই জিজ্ঞাসা করুন।

প্রস্তাবিত সংশোধিত নাগরিকত্ব বিলে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ যদি ধর্মীয় নিপীড়নের ভয়ে পালিয়ে আসেন, তবে তাঁদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবধি যাঁরা এই দেশে এসেছেন, তাঁরাই নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close