West Bengal

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে চারিদিকে হচ্ছে তীব্র বিক্ষোভ-আন্দোলন, ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

হচ্ছে রেল অবরোধ, ভাঙচুর থেকে শুরু করে গাড়িতে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে আগুন আর সেখানেও চলছে রাজনীতি, চলছে একে অপরকে দোষ দেওয়ার খেলা।

@ দেবশ্রী : নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি বৃহস্পতিবার রাতে আইনে পরিণত হয়। অর্থাৎ তা মানতে বাধ্য মানুষ। কিন্তু এর পর থেকেই তীব্রভাবে শুরু হয় বিক্ষোভ। গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলার জেলায় জেলায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন। আগুন, ভাঙচুর থেকে বাদ যায়নি সরকারি বাস, ট্রেন এমনকি থানাও। এমন হিংসাত্মক আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে, মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় বার্তা জানান তাদের।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে তাঁর বার্তায় বলেছিলেন, ‘গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করুন, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। পথ অবরোধ, রেল অবরোধ করবেন না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা এই ধরনের গণ্ডগোল করছেন, রাস্তায় নেমে আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন, তাঁদের কাউকে কিন্তু ছেড়ে দেওয়া হবে না। বাসে আগুন লাগিয়ে, ট্রেনে পাথর ছুড়ে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে, সমস্ত সিনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বসিরহাট থেকে সাঁতরাগাছি, মুর্শিদাবাদের সুতি, বেলডাঙা-সহ একাধিক জায়গা থেকে অশান্তির খবর আসতে থাকে শনিবার। শুক্রবারের পর এদিন নতুন করে অশান্তি ছড়িয়েছে বেশ কিছু জায়গায়। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষ এখন উদ্বেগের মধ্যে। রাস্তায় বেরিয়ে অবরোধে পড়া মানুষজন কার্যত আতঙ্কে কাঁপছেন। এদিনও হাওড়া ডিভিশনের দক্ষিণ-পূর্ব শাখা ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে আন্দোলনকারীদের অবরোধের কারনে। সব মিলিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রশমিত করার জন্য কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে এমন বার্তা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

শুক্রবার সাধারণ মানুষকে দলমত নির্বিশেষে রাস্তায় নামার ডাক দিয়েছিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনিও সোমবার মিছিলে হাঁটবেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যে আন্দোলন এই পর্যায়ে যাবে তা হয়তো কল্পনা করতে পারেনি কেউই।

রাজ্যের দিকে দিকে এই অশান্তি নিয়ে রাজনৈতিক সমালোচনাও শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি এই গোটা ঘটনার জন্য দায় চাপিয়েছেন তৃণমূলের উপর। তিনি দাবি করেন, বাংলায় এবার সেনা নামানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তৃণমূল অবশ্য এই সমস্ত ঘটনার জন্য কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপিকে। শাসকদলের বক্তব্য, বিজেপির জন্যই আজ এই অবস্থায় দেশ। সব মিলিয়ে উত্তর-পূর্বের পর বাংলার পরিস্থিতি এই মুহূর্তে উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন অনেকে।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close