West Bengal

পুনরায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হলেন দিলীপ ঘোষ, উঠছে সমালোচনার ঝড়।

কিছুদিন আগেই নিজের বিতর্কিত মন্তব্যের জন্যে জড়িয়ে পড়েন দিলীপ ঘোষ, দল মন্তব্যে সামিল না থাকলেও আবারও সভাপতির পদ দিল তাকে।

@ দেবশ্রী : আবারও বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসাবে দিলীপ ঘোষ। কে হবে রাজ্য সভাপতি সেই নিয়ে ছিল অনেক জল্পনা, গুঞ্জনা। আর সেই সেই তালিকাতে বিজেপির নেতারা থাকলে, অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন দিলীপ ঘোষ। গত ১২ জানুয়ারি কলকাতা ঘুরে গিয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের ‘দূত’ তথা দলের সাধারণ সম্পাদক ভূপেন্দ্র যাদব। কোর কমিটির ১৫ জনের সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক করেন তিনি। নতুন বিজেপি সভাপতি হওয়া নিয়ে রিপোর্ট জমা দেন। তবে ওই রিপোর্টে দিলীপ ঘোষের সভাপতি হওয়া নিয়ে অনেকে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। আর আজকের এই সভাপতি ঘোষণার বৈঠকে দেখা মেলেনি বাবুল সুপ্রিয়, স্বপন দাশগুপ্তকে। যারা কিছুদিন আগে, দিলীপ ঘোষকে তার বিতর্কিত মন্তব্যের জন্যে নিন্দা করেছিলেন।

সময় যত পার হতে থাকে ততই ছবিটা স্পষ্ট হয়ে আসে, ওই পদে প্রত্যাবর্তন হচ্ছে দিলীপের। রাজ্য দফতরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা বিজেপির পর্যবেক্ষক কিরেন রিজিজু। তাঁকে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন দিলীপ। প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার আগে পর্যন্ত দিলীপ ছাড়া আর কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি। সেক্ষেত্রে তাঁর দ্বিতীয়বার সভাপতি হওয়া কার্যত পাকা। তবে বৃহস্পতিবার ১১টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল। জানা যায়, রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির অধিকাংশ সদস্যই দিলীপ ঘোষকে পরবর্তী রাজ্য সভাপতি হিসেবে দেখতে চান। আরএসএস-রও পছন্দ দিলীপ ঘোষকে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে দিলীপ ঘোষ বলেন,”আমি আগেও সভাপতি হতে চাইনি। জিজ্ঞাসা না করেই ঘোষণা করেছিল। এবারও সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা করলাম। কাল জানা যাবে। আমাদের দলের একটা সংবিধান রয়েছে। অনুগত সৈনিক হিসেবে দলের সির্ধান্ত মানতে আমি বাধ্য।”

তবে সভাপতি পদে দিলীপ ঘোষের দ্বিতীয়বার নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে আশঙ্কার মেঘ। রানাঘাটে সিএএ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে মারার নিদান দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। তার সমালোচনা করেন বাবুল সুপ্রিয়। কেন্দ্রীয়মন্ত্রী টুইট করেন,”দিলীপ ঘোষ যা বলেছেন, তা নিয়ে দল হিসেবে বিজেপির কিছুই করার নেই। উত্তরপ্রদেশ, অসমে বিজেপি সরকার কখনও কারওর ওপর গুলি চালায়নি, তা সে যে কারণেই হোক না কেন। দিলীপদার এমন মন্তব্য অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন।” তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য উড়িয়ে বলে দেন,”ভুল কিছু বলিনি। যা বলেছি দলীয় লাইন মেনেই।” তার পরেও এমন একজন ব্যক্তির হাতে আবারও সেই পদের দায়িত্ব তুলে দেওয়া বোকামি বলে মনে করছেন অনেক মানুষ। আসলে বোকামি বলা ভুল, খানিক অন্যায়। যে সভাপতি দেশের মানুষদের উদ্দেশ্যে এমন কথা বলতে পারে, সে কিভাবে পুনরায় সভাপতি পদে ফিরে আসতে পারে সেই নিয়ে উঠছে বহু প্রশ্ন। উঠছে সমালোচনার ঝড়।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close