Big Story

প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই পড়ছে বাঁধা, ‘গো ব্যাক মোদী’ স্লোগান ও কালো পতাকা নিয়ে প্রতিবাদী আন্দোলনে বিরোধী রাজনীতি দল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষরা।

চারিদিকে চলছে নানান প্রতিবাদী আন্দোলন, নানা বিক্ষোভ। নতুন কোনো প্রশ্নের সম্মুখীন না হতে চাওয়ায়, প্রধামন্ত্রীর সফরে তৎপর হয়েছে রাজ্য সরকার।

@ দেবশ্রী : আজ কলকাতায় প্রধানমন্ত্রীর সফরে গর্জে উঠেছে কলকাতার রাজপথ। মহানগরের বিভিন্ন প্রান্তে শোনা যাচ্ছে, ‘গো ব্যাক মোদী’ এই স্লোগান। শনিবার সকালে কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ, সর্বত্রই মোদী বিরোধিতায় পথে নামেন পড়ুয়াদের একাংশ। গোলপার্ক, যাদবপুর, ধর্মতলা, কলেজ স্ট্রিটে এদিন মোদীর সফরের বিরোধিতায় বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়ারা।

কলকাতায় এসে প্রথমে তিনি যাবেন ওল্ড কারেন্সি বিল্ডিং এ। তবে সেখানে কোনো সমস্যা হতে পারে বলে এখনও পর্যন্ত মনে করা হচ্ছে না। তবে তার প্রিয় তিন যাবেন মিলিনিয়াম পার্কে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে সেখানে একটা ভালো মত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। আর তারপর তিনি বেলুড় মাঠে যাবেন। তবে সেখানেও আন্দোলনের ছায়া পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সব থেকে বেশি যে জায়গা নিয়ে আশঙ্কা তা হল রাজভবন। আজ সন্ধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক।আর সা এই স্থানে একটি বিশাল জনসমাবেশের প্রতিবাদী আন্দোলন ও ‘গো ব্যাক মোদী’ স্লোগান শোনা যাবে।

সিএএ ও এনআরসি-র প্রতিবাদে যখন দেশের অন্য শহরের মতো ফুঁসছে বাংলা, সেই আবহেই আজ বিকেলে দু’দিনের সফরে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফর ঘিরে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী। এবং শনিবার টুইটের মাধ্যমে তা নিজের মুখে জানিয়েছেন মোদী। তুলে ধরেছেন রাজ্যের স্থান এবং তাঁর মাহাত্ম্যের কথা। প্রধানমন্ত্রীর একাধিক কর্মসূচির পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে এদিন সন্ধ্যেবেলা মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনার কথাও উঠে আসছে, যা ঘিরে সরগরম হয়েছে রাজ্য রাজনীতি।

মোদীর সফরের প্রতিবাদে মুখর বাম ও কংগ্রেস-সহ নানা সিএএ বিরোধী সংগঠন। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা করেছে তারা। যেখানে রাজ্য সরকার স্বয়ং এনআরসি এবং সিএএ এর বিরুদ্ধে তাহলে কেন বৈঠকে বসছেন রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, সেই নিয়েও উঠছে বহু প্রশ্ন। মোদী এলেই তাকে ফিরে যাওয়ার স্লোগান দেবে নানান রাজনৈতিক বিরোধী দলগুলি। সাথে এই বিরোধিতার পথে যোগ দিয়েছে অনেক পড়ুয়ারা।

সূত্রের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই সেখানে প্রতিবাদী আন্দোলন চালাবে বিরোধীরা। এবং সেখানে যে বিক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে নতুন করে, তার খানিক আন্দাজও করা যাচ্ছে। তবে সেই বিরোধ আটকাতে মরিয়া পুলিশ প্রশাসন এবং রাজ্য সরকার। সমস্ত আইন শৃঙ্খলা বজায় রেখেই, নির্বিঘ্নে প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য সফর হোক সেটাই উদ্দেশ্য রাজ্য সরকারের। অনেকেই এমনটাই মনে করছেন যে, বিজেপি যাতে রাজ্য সরকারের নামে আবার নতুন কোনো অভিযোগের দাগ না টানে বা কোনো নতুন প্রশ্ন না তুলতে পারে সেই জন্যই এত তৎপরতা রাজ্য সরকারের।

দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর আজ, শনিবার কলকাতায় আসছেন নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবারই সিএএ গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবাদে মুখর রাজ্যের শাসক দল। তাই মোদীর এবারের কলকাতা সফর বিশেষ তাত্‍পর্যবাহী বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, কলকাতা বন্দরের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রবিবার একমঞ্চে দেখা যেতে পারে মোদী-মমতাকে। তবে তার আগেই অবশ্য আজ রাতেই রাজভবনে প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকের সম্ভাবনা জোরাল হচ্ছে। দেখার বিষয়, সিএএ বিতর্কের মধ্যেই প্রকাশ্যে মোদী-মমতাকে একমঞ্চে দেখা যায় কিনা। নাকি বৈঠকে ঘটবে অন্য কোনো দৃশ্য।

তবে বৈঠকের স্থানে অর্থাৎ রাজভবনে জড়ো হয়েছে অনেক মানুষ। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করে তারা আজ নেমেছে রাস্তায়। এই দু’দিনের কলকাতা সফর ঠিক কতটা সফল হবে বা বলা ভাল কেমন যাবে তা এখন থেকেই বোঝা মুশকিল হচ্ছে। কারন যে পরিমানে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি সব মানুষ ক্ষিপ্ত সেখানে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কী রূপ নিতে চলেছে তা কল্পনা করা যাচ্ছে না। তবে সমস্ত পরিস্থিতিকেই সামাল দেওয়ার জন্যে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ব্যবস্থা। তৎপরতার সাথে কাজ করছে রাজ্য প্রশাসন।

জানা গিয়েছে, বিকেল ৪টের সময় কলকাতায় পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর চপারে করে রেস কোর্সে নামবে নরেন্দ্র মোদী। বিকেল ৫.২০তে সড়কপথে যাবেন বিবাদী বাগে ওল্ড কারেন্সি বিল্ডিংয়ে। সেখানে এক ঘন্টা মতো থাকবেন তিনি। ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মিলেনিয়াম পার্ক থাকবেন নরেন্দ্র মোদী। সেখানে হাওড়া সেতুর ওপর তৈরি সাইট এন্ড সাউন্ডের উদ্বোধন করবেন তিনি। মিলেনিয়াম পার্ক থেকে নদীপথে যাবেন বেলুড় মঠে। ফের জলপথেই কলকাতায় ফেরার কথা প্রধানমন্ত্রীর। রাজভবনে রাত্রিবাসের করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। রবিবার সকালে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বন্দরের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার দুপুর ২.৫০-এ দিল্লির উদ্দেশ্যে উড়ে যাবে তাঁর বিমান।

তবে কতটা সফল হবে এই সফর বা কতটা সমস্যা ছাড়া এই পুরো সফর হবে বারবার তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বারবার জোরালো হচ্ছে মোদী-মমতার বৈঠক। আর সেই নিয়েও হচ্ছে তুমুল সমালোচনা। ঠিক কোন পর্যায়ে যাবে বা কতটা সাফল্য পাবে এই সফর উঠছে প্রশ্ন। অপেক্ষা করছে সবাই। পশ্চিমবঙ্গে আসা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর যে উচ্ছাস, কলকাতা আসার পর তা কতটা বজায় থাকে তা দেখার বিষয়। কারন বিরোধীরা তৈরী তাদের ‘গো ব্যাক মোদী’ স্লোগান নিয়ে।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close