Youth

পড়াশোনার চাপ আর অবস্ব্বাদ কেড়ে নিল এক বালকের জীবন !

শৈশব হারাচ্ছে ছেলে-মেয়েরা। জীবনকে উপভোগ করার বদলে চাপের মধ্যে সময় কাটছে তাদের।আর সেটাই তাদের ক্রমশ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।

@ দেবশ্রী : পড়াশোনা জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তা কখনোই কোনো জীবনের পরিবর্তে নয়। সব বাবা-মায়েরা চান তাদের ছেলে মেয়ে যেন, পড়াশোনায় খুব ভালো হয়। কিন্তু সেই চাওয়া যদি কারোর জীবনকে কেড়ে নেয় তাহলে সেটা কখনোই কাম্য নয়। খেলাধুলা বা অন্যান্য কোনো বিষয়ে আগ্রহকে অনেক পরিবারেই বাড়তে দে না। তবে ছেলে খেলায় খুব ভালো হলো পড়াশোনার চাপে নিজের প্রাণ দিল বাঘাযতীনের রোহন রায়। রোহন ফুটবল খেলায় অপূর্ব। তবে পড়াশোনায় একটু কম মনোযোগ ছিল তার সেই জন্য স্কুল হোক কি বাড়ি, সব জায়গাতেই বকা ক্ষেত্রে। কিন্তু খেলার জগতকে সে ভালোবাসতো। সারা ঘরকে, ট্রফিতে ভর্তি করে রেখেছিলো। ইস্টবেঙ্গলের সাব জুনিয়ার টিমেও সে সম্প্রতি ডাক পেয়েছিলো। কিন্তু পড়াশোনার কারনে বারবার গঞ্জনা শুনতে হতো থাকে। সেই অভিমানেই মায়ের শাড়ি জড়িয়ে, আত্মহত্যা করল বাঘাযতীনের ১২ বছরের রোহন রায়। তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। মঙ্গলবার রাতে ঘরের দরজা ভেঙে রোহন এর দেহ উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। মানসিক অবসাদের কারণেই এমনি একটা বড় পদক্ষেপ নেয় বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কলকাতার নাকতলা হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল রোহন। ফুটবলই ছিল তার ধ্যানজ্ঞান তার ভালোবাসা।রিলায়েন্স আয়োজিত আন্ত:স্কুল সাবজুনিয়র ফুটবল কম্পিটিশনে সেরা খেলোয়াড়ের শিরোপা পেয়েছিল রোহন। কিন্তু পড়াশোনার ক্ষেত্রে তার পরিবারকে খুশি করতে পারেনি রোহন। রোহনকে তার দাদার সাথে সবসময় তুলনা করা হতো। দাদা ভালো আর সে পড়াশোনায় খারাপ বলে তাঁকে প্রায়শই খোঁটা দেওয়া হত। পারিবারিক এবং পাড়া প্রতিবেশীদের থেকে জানা যায়, দিন কয়েক আগে স্কুলেও তাকে বকাবকি করা হয়েছিল পড়াশোনা নিয়ে। স্কুলের তরফে অভিভাবকদের কাছেও অভিযোগ জানানো হয়। রোহন এর প্রতিবেশীরা জানায় মঙ্গলবার তাঁর বাড়িতে তাকে খুব বকাবকি করা হয়, তা এমনভাবে হয় যে আশেপাশে পর্যন্ত শোনা যাচ্ছিল।

বকা খেয়ে, উপরে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় রোহন। রাট ৯টার দিকে তাকে ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু কোনো রকম সাড়া না পাওয়াতে সন্দেহ হয় রোহনের বাবা-মায়ের। তারপর তার ঘরের দরজা ভাঙা হয়, প্রতিবেশীদের সাহায্য নিয়ে। সেখানেই তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বাঘাযতীনের হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু তার আগেই শেষ হয়ে গেছিলো সবকিছু। রোহনের মৃতদেহকে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের সুবাদে পুলিশ রোহনের পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করেছে। ঠিক কোন কারনে রোহন এমন কাজ করল, তা খতিয়ে দেখছেন পুলিশ।

মনোবিদদের কোথায়, অভিভাবকদের ছেলে মেয়ের পড়াশোনা নিয়ে এমন উদ্বেগের কারনে বা অন্য যে কোনো কারণেই, শিশুদের মনের উপর অনেক প্রভাব ফেলছে এবং তাদেরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মনস্তত্ত্ববিদ অনুত্তম বন্দোপাধ্যায় বলেন, যেটা হয়েছে সেটা খুবই দুঃখজনক। কতটা ভেঙে পড়লে তারপর একজন শিশু এমন পদক্ষেপ নেয় তা কল্পনা করা যায় না। এখন সব জায়গায় বাচ্ছাদেরকে অন্যদের সাথে তুলনা করা হয়। কিন্তু অভিভাবকরা বুঝতে পারেন না যে এর কতটা বাজে প্রভাব তাদের ছেলে মেয়েদের উপর পরে তাই এটা আগে বন্ধ করা উচিত। একজন শিশু যখন সবার থেকে দূরে একা থাকতে শুরু করে, তখনই সে অবসবাদে ভুগতে থাকে। এই রকম হতে দেওয়া কখনও উচিত নয়। অভিভাবক হওয়ার পাশাপাশি একজন ভালো বন্ধ্যা হতে হয়। নাহলে কখন যে ছেলেমেয়ে দূরে চলে যাবে তা বোঝা যাবে না। পরে আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close