Analysis

বাম-কংগ্রেসের রক্তক্ষরণ জোটের জটে নাভিশ্বাস : মানুষের আস্থা পেতে সময় লাগবে !

২০১১ থেকে ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছে রাজ্যের বাম শক্তি। সময়ের ডাকে সারা দেবার ক্ষমতা কমে যাওয়ায় জোটের জল্পনা বাস্তবে রূপ পেলেও মানুষের আস্থা পেলনা এই ভোটেও , জোর জল্পনা ঘরে বাইরে।

নগর কীর্তন : উপনির্বাচনের মাহাত্ব বা গুরুত্ব সেভাবে না পেলেও কিছু একটা ঘটবে বলে জোট পন্থীরা মনে করেছিলেন। রাজনীতির ময়দানে বিজেপির বিকল্প স্থানে নিজেদের নিয়ে যাবার কাগজে কলমের পরিকল্পনা ঠিকই ছিল। কিন্তু সময় বড় কম থাকার জন্য মানুষের দরবারে নিজেদের কথা তুলে ধরবার সময় হয়ে উঠলোনা এবারও , তাও তিন জায়গা মিলে বেশ কয়েক টি সভায় বড় সর জমায়েত অনেকেরই ঘুম কেড়ে নিয়ে ছিল।

প্রাথিমিক ভাবে বলা যায় উপ-নির্বাচনে জোর ধাক্কা খেল বাম-কংগ্রেস জোট। ২০১৬ এর নির্বাচনের হিসেবে ভোট কমল ২১ থেকে ৪৫ শতাংশ।যদি দেখা যায় লোকসভা নির্বাচন অনুযায়ী কালিয়াগঞ্জ-করিমপুরে জোটের ভোট প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। খড়্গপুরে বাম কংগ্রেসের ঝুলিতে বাড়তি ৫ শতাংশ ভোট। ভোটারদের একটা অংশ তৃণমূলের ওপরই ভরসা রাখায় বাম-কংগ্রেসের রক্তক্ষরণ অব্যাহত । এনআরসি আতঙ্কে মানুষের কাছে নিজেদের ভরসা যোগ্য করে তুলতে ব্যর্থ বাম ও কংগ্রেস শিবির।

ভোটের বাজারে সীমান্তবর্তী দুই আসন কালিয়াগঞ্জ ও করিমপুর। এই দুই আসনে সংখ্যালঘু ভোট যথাক্রমে ২১ ও ৩৪ শতাংশ।এই ক্ষেত্রে বাম কংগ্রেস দুই দলই সমর্থন জোগাড় করতে পারলো না সাধারণ মানুষের।উপনির্বাচনের ফলে কালিয়াগঞ্জে বাম-কংগ্রেসের ভোট কমেছে ৮ শতাংশ লোকসভা নির্বাচনের তুলনায়, ।এক্ষেত্রে বিজেপির ভোট কমেছে ৯ শতাংশ। অপর পক্ষে ১৭ শতাংশ ভোট বেড়েছে তৃণমূলে দুই কেন্দ্রে । প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট কমেছে বিধানসভা ভোটের তুলনায় বাম ও কংগ্রেসের।

পর্যালোচনা যদি করা হয় তাহলে দেখা যাবে করিমপুরে বাম-কংগ্রেসের, ভোট কমেছে ১০ শতাংশ। ৩%. ভোট বেড়েছে বিজেপি-র ,তৃণমূল তাদের কে পিছনে ফেলে দিয়েছে । ৭ শতাংশ তৃণমূলের ভোট বেড়েছে।বাম এবং কংগ্রেসের ভোট কমেছে প্রায় ২৮ শতাংশ বিধানসভা ভোটের তুলনায় উপনির্বাচনে ।

এই ভোট অন্য কিছু জানান দিচ্ছে , যেমন কালিয়াগঞ্জ-করিমপুরে ১টা বিষয় পরিষ্কার।এরআরসির আতঙ্কে দুই সম্প্রদায়ই । তৃণমূলের ওপর অনেক বেশি ভরসা রেখেছে এনআরসি-র আতঙ্কে ।কারণ তৃণমূলের হাতে এখনও সরকারের চাবি কাঠি।এলাকার তৃণমূলের নেতারা ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছে যে পুলিশ নামক বিষয়টি তাদের হাতেই আছে , ফলে বাঁচালে বাঁচাতে পারে তারাই। অতয়েব নাগরিকপঞ্জির পক্ষে প্রচার, লাভের বদলে বিজেপির ক্ষতি করেছে।যাঁরা চাইছেন না এনআরসি তাঁরা বাম-কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে তৃণমূলের হাতই আরও শক্ত করতে চেয়েছেন। কারণ বিগত ৯ বছরে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যায় সেভাবে কাজ করেনি উভয় দলেরই কেও। ভোট এসেছে বারংবার , সভা হয়েছে অনেক কিন্তু মানুষের ভরসা অর্জন করতে পারেনি।

খড়গপুর সদর আসনে অবশ্য কিছুটা অন্য চিত্র , যদিও জিতেছে তৃণমূল । এই নির্বাচনে লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় খড়গপুরে বাম-কংগ্রেসের ভোট বেড়েছে ৫ শতাংশ। হিসেবে অন্য্ কথা বলছে বিধানসভা ভোটের তুলনায় তাদের ভোট কমেছে ২১ শতাংশ।ভোট কমেছে সবচেয়ে বেশি, ২৪ শতাংশ বিজেপির । ১৮ শতাংশ বেড়েছে তৃণমূলের ।

বিশেষজ্ঞদের মতামত , সাধারণ মানুষের কাছে ভরসা যোগ্য হতে গেলে মানুষের সমস্যা নিয়ে অঞ্চল স্তরে কাজ করতে হবে। প্রতিবাদে সমঝোতা পছুন্দ করছেন না , পাহাড় প্রমান দুর্নীতিতে বামপন্থীদের আন্দোলন শুধু প্রচারেই থেমে থাকছে। ভোটের টিকিট নেতার পচুন্দে নয় মানুষের কাছের লোক হোক। একটা বড় লড়াই আশা করছে সাধারণ মানুষ। তবে প্রত্যাশা পূরণে আরো সময় লাগবে।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close