Analysis

মহারাষ্ট্রের নয়া নাটক, জোড়া পদত্যাগ মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীর

শুরু হয়েছিল রঙ্গমঞ্চ, তাতে এবার দেখা গেল আরও বড় মোড়। শপথ গ্রহণের চারদিনের মাথাতেই, সমর্থনের তালিকা না দেখাতে পারার সম্ভাব্নাতেই ছেড়ে দিল নিজেদের পদ।

@ দেবশ্রী : মহারাষ্ট্রের নাটকে দেখা গেল আর এক নয়া মোড়। প্রথমে ইস্তফা দিলেন উপমুখমন্ত্রী অজিত পওয়ার আর তার পরে পরেই, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন, ফড়নবীশ। প্রশ্ন এখন বহু, কিন্তু নেই কোন উত্তর। গত দেড় মাস ধরে মহারাষ্ট্রের বিধানসভা কেন্দ্র করে চলছে নানা জল্পনা, নানা সমালোচনা, কে কোথায় যাচ্ছে সেই নিয়ে শোনা যাচ্ছিল নানা কথা, উঠছে বহু প্রশ্ন।

যখন অজিত পওয়ারের বিজেপিতে যোগদান করার কথা উঠেছিল, তখনও প্রশ্ন আসছিল অনেক। বিধানসভার ভোটের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়াতে, এনসিপি নেতা অজিত পওয়ারের বিজেপি যোগদানের কথা উঠেছিল। তবে অনেকেই বুঝে উঠতে পারছিলেন না তিনি বিজেপিতে ইতিমধ্যেই যোগদান করে ফেলেছেন নাকি এখনও পর্যন্ত শুধুই কথা হয়েছে ? অন্যদিকে আর একটি সম্বভবনাও মানুষের মনে আসছিল যে, তিনি কি বিজেপির সমর্থনে এনসিপিতে থাকবেন ? আসল ঘটনাটি কি ? সেই সময় তাঁর পদত্যাগের কথা ওঠে, অজিত পওয়ার জানতেন তিনি যদি বিজেপিতে যান তাহলে সেখানে তাকে এই মুহূর্তে শুধু কাজ করতে হবে, কোনো বিশেষ পদ হয়ত পাবেন না। অনেক কিছু ভেবে কিছু দিন আগে তিনি বিজেপিতে যোগদান করার জন্য শপথ গ্রহণ ও করতে যান। এমত অবস্থায় সবার মনে হয়, অজিত পওয়ার নিজের দলের সাথে অন্যায় করছেন।তাই তাকে বের করে দেওয়া উচিত দল থেকে। কিন্তু কোনো সির্ধান্তই প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসছিল না। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন অজিত পওয়ার। শুধু তাই না নিজের সাথে আরও ১১ জন নাম করা বিধায়ককে নিয়ে বের হন।

অজিত পওয়ারের পদত্যাগ করার সাথেসাথে অনেকে বলেন যে, তাঁর নামে অনেকগুলি ক্রিমিনাল রেকর্ড ছিল, সেই কারণেই হয়ত তাকে ওই পদ থেকে সরানো হয়। আবার অনেকে মনে করেন, অজিত পওয়ার তার অগুনতি টাকা দিয়ে ১১ জন বিধায়ককে কিনে বিজেপিতে পাঠিয়ে দেয়। তবে এই বিষয়ে সর্ব প্রথমে শরদ পওয়ার কিছু জানতেন না বলে দাবি করেন। এই সব কিছু তার জন্যেও নতুন। বিধানসভায়, এসসি আদেশ প্রাপ্ত তল পরীক্ষা অনুষ্টান হওয়ার এক দিন আগে যে এমন ঘটনা ঘটতে পারে তিনি ভাবেননি।

শপথ গ্রহণের মাত্র চারদিনের মাথায় রঙ্গমঞ্চের মোড় পাল্টে যায়। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করে দেন। মঙ্গলবার দুপুর বেলাতে পদত্যাগ করেন অজিত পওয়ার। আর তাঁর পদত্যাগের পর পরেই শুরু হয়েছে, মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনে নয়া পরিকল্পনা। প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবীশের সাথে প্রায় ১ ঘন্টা বৈঠকে বসেন অজিত পওয়ার। আর সেই বৈঠক থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরেই নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন অজিত পওয়ার। তবে এই পদত্যাগের পর, ফড়নবীশের দল নড়বড়ে হয়ে যায়।

অজিত পওয়ারের পদত্যাগ নিয়ে সমালোচনা শেষ হতে না হতেই ঘটে যায় আর এক বড় চাঞ্চল্যকর ঘটনা। যার পরিকল্পনাও কেউ করতে পারেনি। অজিত পওয়ারের পদত্যাগের সাথে সাথে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবীশও পদত্যাগ জানান। এখন প্রশ্ন উঠেছে কি কারনে ফড়নবীশ পদত্যাগ করলেন ? তার এমন করার পিছনে কারনটি কি ? বিধানসভাতে নিজেদের সমর্থকদের সংখ্যা দেখানোর কথা ছিল, মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু এই মুহূর্তে তাদের কাছে সেই রকম কিছু নেই। নিজেদের স্বার্থে কোনো প্রমান নেই তাদের কাছে। সুপ্রিম কোর্ট তাদেরকে যে নথি বিধানসভায় দেখানোর নির্দেশ দিয়েছিল তা কিন্তু নেই। বিজেপি বা শিবা সেনার সমর্থনের যে চিঠি দেখানোর কথা সেই চিঠিই তারা পায়নি তাই দেখানোর প্রশ্ন উঠছে না।

এই সব কিছুর জেরেই কি এখন, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফড়নবীশ ? এই মুহূর্তে মহারাষ্ট্রের গণতন্ত্র ব্যবস্থা হাস্যকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন এখন অনেক। চারিদিকে নানান সমালোচনা চলছে, উঠছে হাজারো প্রশ্ন। এখনও পর্যন্ত শরদ পওয়ার এই বিষয়ে কিছু বলেননি। তাহলে কি ফড়নবীশ ও অজিত পৌয়ারের পথে হেঁটে বিজেপির দিকে এগলো নাকি বেঁচে নীল অন্য পথ ? আবার নতুন কোন মোড় নেবে এই রঙ্গ মঞ্চ সেটাই দেখার বিষয়।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close