Nation

মেয়েদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা এখনও ,দেশে প্রতি ঘন্টায় চল্লিশ জন হচ্ছে ধর্ষিত

মেয়েদের সমস্যা এখনও দূর হয়নি, সম্বোধনকারীরা কি মনে মনে সমাজে ও জীবনে মহিলাদের স্থান সম্পর্কে প্রথম থেকেই এক কট্টর অবস্থান বজায় রেখেছেন?

সায়ন্তনী রায় :  মেয়েদের সমস্যা দূর করতে দেশ এখনও পিছিয়ে।ধর্ষণের সংখ্যা দিনের দিন বেড়েই চলেছে। মেয়েদের স্বাধীন জীবন হয়তো কোথাও না কোথাও এখনও আটকা পরে আছে। ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ -এর স্লোগানটি শুধু কথার কথা থেকে যাচ্ছে।যার জন্য প্রতিবাদী ছাত্রীরা অন্য ‘ব্যবসার সঙ্গে’ যুক্ত আছেন বলে শোনা যায়,প্রখ্যাত আবৃত্তিকার ও বাচিক শিল্পীও ‘অনন্য’ সম্বোধনের হাত থেকে রক্ষা পান না।কিছু কাল আগে বিজেপি নেতা অশ্বিনীকুমার চৌবে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবীকে ‘ঘোমটার আড়ালে’ থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। রাবড়ি দেবীর রাজনৈতিক এবং অন্যান্য অবস্থান সম্পর্কে অনেক বক্তব্য থাকতে পারে। কিন্ত ঘোমটার আড়ালে তাঁর অস্তিত্বকেই ঢেকে ফেলার মধ্যে সমাজে নারীর স্থান নিয়ে একটা সর্বনাশা ইঙ্গিত উঁকি দেয়। উত্তরপ্রদেশের আর এক নেত্রী সাধনা সিংহ বহুজন সমাজবাদী প্রধান মায়াবতীকে  ‘নারীজাতির কলঙ্ক’ বলেন। মায়াবতী এর আগে বিভিন্ন কারণে সমালোচিত হয়েছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে তাঁকে ‘নারী’ হিসাবেই দেখা হল। আর  ‘কলঙ্ক’ শব্দটিতে তো নারীর জন্মগত অধিকার।

আমাদের দেশ এখন পুরুষের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকীর দেশ।‘নারীবাদ’ নিয়ে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের নিরিখে এই মন্তব্য নয়, নারীকে সসম্মানে পরিবার এবং সমাজের মঞ্চে এসে দাঁড়াবার অধিকার দিতে বিদ্যাসাগর নিজে সারা জীবন লড়াই করেছেন। আর তাঁরই দেশে ‘সেভ ইন্ডিয়ান ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন’এর উদ্যোগে বারাণসীতে গত ২২ সেপ্টেম্বর করা হল ‘পিশাচিনী মুক্তি যজ্ঞ’। উদ্দেশ্য ছিল দেশ থেকে ‘বিষাক্ত’ নারীবাদকে মুছে দেওয়া।দেশে বছরে দশলক্ষ কন্যাভ্রূণ নষ্ট করা হয়, প্রতি ঘন্টায় প্রায় চল্লিশ জন নারী ধর্ষিত হন, মেয়েদের সাক্ষরতার হার যেখানে স্বাধীনতার বাহাত্তর বছর পরও সত্তর ছুঁতে পারেনি, গার্হস্থ্য হিংসার কারণে যে দেশ বিশ্বে সবচেয়ে নিন্দিত, সেখানে নারীবাদ নিয়ে এত ঘৃণা।ভারতের গেরুয়া রাজনীতির অন্যতম প্রধান পুরুষ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ যোগী। ক্ষমতায় এসে নারীর নিরাপত্তা এবং সম্মান রক্ষা বিষয়ে অনেক ইতিবাচক কথা আমরা তাঁর মুখে শোনা গেছে।

নারী হলেন শক্তি। নারী কে ঘৃণা করা মানে নিজের দেশের প্রতি ঘৃণা করা। নারীকে শ্রদ্ধা জানানো দেশের লোকেদের কর্তব্য। মেয়েদের সুরক্ষার জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে?আগে বন্ধ করতে হবে   ধর্ষণ । তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হোক।নারীর সুরক্ষা দিতে পিছু পা হলে চলবেনা। দেশের মেয়েদের সুরক্ষা করতে সবাই এগিয়ে আসুক। 

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close