Analysis

রেডরোডের কার্নিভ্যাল কি আদতে শিল্প সংস্কৃতির মান বাড়িয়েছে ? তবে এত খরচ কেন ? ” বিতর্কের মুখে কার্নিভ্যাল !

শহর জুড়ে অনেকেরই প্রশ্ন কিসের জন্য এই কার্নিভ্যাল ? যেখানে এই রাজ্যে সেভাবে শিল্প নেই , কাজের খোঁজে অন্য রাজ্য মুখী , ব্যবসার অবস্থা ভালো নয়। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমেছে অনেক গুন্, সেখানে কোটি কোটি টাকা খরচে লাভ কি ?

রেড রোডের দুই ধার সেজে উঠছে শারদীয়া কার্নিভ্যাল এর জন্য।মূল মঞ্চ হয়েছে ঠিক পুরানো ঐতিহ্যবাহী দালান বাড়ির আদলে বিষ্ণুপুরী।বসার জায়গা তৈরি হয়েছে গ্যালারির মত। মূল মঞ্চের দুই দিকে প্রায় ১০০ মিটার করে মাথায় থাকা জায়গা , সেটাও গ্যালারির মত। ওপর পক্ষে সমান ভাবে বসার জায়গা। আর দুই প্রান্তে বেশ কয়েক হাজার মানুষের বসার জায়গা। সব মিলিয়ে হাজার আটক মানুষ এই কার্নিভালে সামিল হতে পারবেন ওই রাস্তায়। পার্কস্ট্রিট থেকে আসার রাস্তায় থাকবে বেশ কয়েকটা বড় অস্থায়ী ছাউনি যাতে ক্লাব কমিটির সকলে বসতে পারে। সঙ্গে থাকছে অস্থায়ী টয়লেট , গাড়ী পার্কিং করার জায়গা। বেশ কয়েকটা প্রজেক্টর স্ক্রিন থাকবে বা ডিজিটাল স্ক্রিন থাকবে যাতে সকলে দেখতে পারে এই রোড শো। অনুষ্ঠান দূর থেকে শোনার জন্য লাগানো হয়েছে কয়েকশো মাইক। শেষের ২০ দিন ধরে চলছে রাতদিন কাজ।

একাদশীর সকাল থেকেও গঙ্গার প্রতিটি ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের ভিড়।তবে শহরের গায়ে এখনও পুজোর গন্ধ লেগে রয়েছে। আরও একবার সোরা পুজোর প্রতিমা দর্শন পাওয়ার অপেক্ষায় বাঙালি। সৌজন্যে দিদির মস্তিকপ্রসূত পুজো কার্নিভ্যাল।আর এর অযিজনে নেমে পড়েছে কোমর বেঁধে রাজ্য সরকার। প্রাথমিক ভাবে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর সূত্রের খবর, কলকাতার ৭৯টি এবং আর পাশাপাশি জেলার কয়েকটি প্রতিমা আসবে ওই উৎসবে।মূলত হাওড়া , হুগলী ছাড়া সেভাবে অন্য জেলা বঞ্চিত। সরকারি ভাবে ক্লাবগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দুপুর ২টোর মধ্যে প্রতিমা নিয়ে পৌঁছে যেতে হবে।

আমন্ত্রণ পত্র পাঠানো হয়েছে কলকাতায় অবস্থিত প্রতিটি বিদেশি দূতাবাসের কর্তা-সহ শিল্প ও সংস্কৃতি জগতের লোকজন এর কাছে। আফসোসের কিছু নেই সাধারণ মানুষও থাকতে পারবেন দর্শক হিসেবে। আর সবশেষে বলতে হয় পুজোর থিমকে মাথায় রেখে এই বছরের থিম রাঙা মাটির বাংলা। বাঁকুড়ার পোড়ামাটির শিল্পে সাজছে অনুষ্ঠান মঞ্চ। সব মিলিয়ে গান নাচ , আর আলোর রোশনায়ই এ রেডরোড মুখী হবে মানুষ। নেতা নেত্রীদের কাছে আবদার আবেদন চলছে মূল মঞ্চের কাছে বসার জন্য।

বিশ্ব বাসীকে দেখার জন্য সরকারি ভাবে বহুমূল্যের দামি ক্যামেরা বসবে সরাসরি দেখাবার জন্য , আর সেখান থেকেই লিংক দেওয়া হবে সকল সংবাদ মাধ্যম কে। প্রাথমিক ভাবে যা জানা যাচ্ছে কোন বেসরকারি বা সরকারি সংবাদ মাধ্যমকে আলাদা করে অনুষ্ঠান দেখানোর অনুমতি মিলবে না। তবে প্রেস কর্নার থাকবে , আগে থেকে অনুমতি পত্র নিয়ে ঢুকতে হবে।

রাজনৈতিক মহলে বড় প্রশ্ন , বাজারের অবস্থা যখন ভালো নয় তখন কেন এত খরচা। রাজ্যে শিল্প নেই , শেষের ১০ বছরে কর্মসংস্থান তলানিতে ঠেকেছে। বিকল্প কর্ম সন্থানের পথ সেভাবে হয় নি। রাজ্যে বন্ধ শিল্পের পরিমান বাড়ছে। কৃষকের হালও ভালো নয়। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা তলানিতে এসেছে। বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় মূল্য যখন আগুন তখন এই ধরণের খরচের যুক্তি খুঁজে পাচ্ছে না। সুভাষ মুখ্যোপাধ্যায় সিপিআইএম নেতা বললেন ” মমতা ব্যানার্জির বেক্তি ইমেজ তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তাতে সাধারণ মানুষের কি লাভ। বেশ কয়েকবার তো উনি করলেন কোথাও তো কোন শিল্প এলোনা। কি হয়েছে সংস্কৃতির বা উন্নয়নয়ন। সরকারি টাকায় ধর্মীয় ফেস্টিভ্যাল করে ধর্মীয় উস্কানি সৃষ্টি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের সংবিধান এর অনুমতি দেয় না। চাবাগানের শ্রমিকরা অনাহারে , ছাটাই চলছে সর্বত্র , বন্যা কবলিত কয়েক লক্ষ্য মানুষ আর তাদের মুখ্য মন্ত্রী আলোর রোশনাই বসে আনুন্দ উপভোগ করবেন এটাই তো আমাদের মুখ্য মন্ত্রী। ”

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close