Nation

লকডাউনের জেরে আটকে রয়েছে বহু ট্রাক।

চেকপোস্ট বন্ধ ,আটকে বহু ট্রাক। তার মধ্যে নেই তাদের খাদ্য,পানীয়।

পল্লবী : করোনা সংক্রমণের মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউন শুরু হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহে কিছুটা অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। লকডাউন চালু হওয়ার পর থেকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বোঝাই কয়েক হাজার ট্রাক আটকে পড়েছে বিভিন্ন রাজ্যের সীমানায়। ইতিমধ্যেই সিল করে দেওয়া হয়েছে সব রাজ্যের সীমান্ত। বন্ধ করা হয়েছে চেকপোস্ট। এই পরিস্থিতিতে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে প্রবেশে ট্রাকচালকদের অনুমতি দিচ্ছে না পুলিশ। আবার হাইওয়ের ধারে ধাবা ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় জল কিংবা খাবার কিছুই পাচ্ছেন না চালকেরা। ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। পরিস্থিতি দেখে বহু ট্রাকচালক গাড়ির চাবি মালিকের হাতে তুলে দিয়ে দেশে ফিরে যেতে শুরু করেছেন। পরিণামে দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অল ইন্ডিয়া মোটর ট্রান্সপোর্ট কংগ্রেসের চেয়ারম্যান বাল মালকিত সিং বলেন, ‘রাস্তায় খাবার মিলছে না। অন্য পরিকাঠামোও নেই। তাই চালকেরা বাড়ি থেকে বেরোতেই চাইছেন না। কোন পণ্য অত্যাবশ্যকীয়, কোনটা নয়, তার স্পষ্ট তালিকা না থাকায় আটকে দেওয়া হয়েছে সব ট্রাকই।’ ইন্ডিয়ান ফাউন্ডেশন অফ ট্রান্সপোর্ট রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সংস্থার হিসাবে, লকডাউনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সীমানায় আটকে পড়েছেন প্রায় ৫ লক্ষ ট্রাকচালক ও খালাসি। এর জেরে ওই সব ট্রাকে আটকে থাকা জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমনকি এসব ট্রাকে বোঝাই করা রয়েছে এলপিজি সিলিন্ডারও।

কর্ণাটকের এক ট্রাকচালক জানিয়েছেন, হুবলি থেকে ভোর চারটেয় ট্রাক ছাড়েন। বেলা একটা নাগাদ পুলিশ রাজ্যের সীমানায় আটকায় তাঁর ট্রাক। বার বার বলা সত্ত্বেও পুলিশ কোনও কথাই শুনতে চাইছে না। ওই জায়গায় এলপিজি সিলিন্ডার বোঝাই ৩০টি ট্রাকের চালক ও খালাসি টিকে রয়েছেন শুধু জল খেয়ে। সমস্যা আরও বেড়েছে গাড়ির স্পেয়ার পার্টসের দোকানগুলি বন্ধ থাকার দরুন। গাড়ি কোনওভাবে বিকল হলে সারানো কঠিন হয়ে উঠছে। তবে এসবের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে মানবিক সমস্যা। রাস্তায় দুর্গতির কারণে আর কাজ করতে চাইছেন না ট্রাকচালক ও খালাসিরা।

আইএফটিআরটি-‌র এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই আড়াই থেকে তিন লক্ষ ট্রাকচালক ও খালাসি দেশে ফিরে গিয়েছেন। এঁদের বেশিরভাগই স্থায়ী কর্মচারী নন। তাঁদের দেওয়া হয় ন্যূনতম মজুরি। কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছে ইন্ডিয়ান ফাউন্ডেশন অফ ট্রান্সপোর্ট রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সংস্থা কারণ, এই পরিস্থিতিতে কোনওরকম আর্থিক দায়িত্ব নিতে নারাজ পরিবহণ সংস্থাগুলি।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close