West Bengal

শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়, নৈহাটী বাজি কারখানায় বিস্ফোরক সরবরাহকারী মুন্না।

বাজি কারখানাতে সরবরাহ হতো বিস্ফোরক বোমা, আর তা সরবরাহ করত মুন্না সাউ, সেই ছিল এই চক্রের মূল পান্ডা।

@ দেবশ্রী : গত সপ্তাহে নৈহাটিতে ঘটে যায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। আর এবারে দেবকের বাজি কারখানায় বিস্ফোরক সরবরাহকারী মুন্না সাউকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এই কারখানার মূল পান্ডা ছিল এই মুন্না। আজ সোমবার ভোররাতে নৈহাটি থানার পুলিশ, মুন্নাকে উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুর থেকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানায় যে, মধ্যপ্রদেশ থেকে সড়কপথে দেবকের বাজি কারখানাগুলিতে সে বিস্ফোরক সরবরাহ করত। ইতিমধ্যেই তার জেরা করা শুরু করে দিয়েছে নৈহাটি থানার পুলিশ। জানা যায় আজকেই তাকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করবেন পুলিশ।

দেবকে বিস্ফোরণের পরে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল ওই কারখানার মালিক নূর হোসেনকে। পুলিশ তাকে জেরা করেছে। ওই কারখানায় যে সব গাড়ি কাঁচামাল সরবরাহ করতে আসত পুলিশ সেই সব গাড়ির চালকদের চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। নূরের কাছে পাওয়া তথ্য যাচাই করে পুলিশ নিশ্চিত হয় মুন্না সাউয়ের ব্যাপারে। তার পরেই পুলিশ তাকে ধরার জন্য পরিকল্পনা বানায়।

জানা যাচ্ছে, ধৃত মুন্নাকে আদালতে পেশ করে তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চাইবে পুলিশ। যেসব গাড়িতে করে সে মধ্যপ্রদেশ থেকে বিস্ফোরক সরবরাহ করত সেইসব গাড়িতে আর কী থাকত সে কথা পুলিশ জানার চেষ্টা করবে। আর কোন কোন জায়গাতে সে বিস্ফোরক সরবরাহ করত সে কথাও পুলিশ জানতে চাইবে বলে সূত্রের খবর।

গত ৩ জানুয়ারি নৈহাটির দেবকে একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে যায়। বিস্ফোরণে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আট জন এখনও গুরুতর অবস্থাতে হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার অঞ্চলজুড়ে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়। গঙ্গার অন্য পারের হুগলির একাংশও কেঁপে ওঠে ওই বিস্ফোরণে। চুঁচুড়ার প্রেমনগর, আখনবাজার-সহ একাধিক এলাকার মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরাও সেই কম্পন অনুভব করেছেন। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন দু’পাড়ের বাসিন্দারা। ওই বাজি কারখানা থেকে উদ্ধার হওয়া বোমা-বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করতে গিয়েও ঘটে বিপত্তি।

নৈহাটির ছাইঘাটে পুলিশ ওই বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় যে বিস্ফোরণ ঘটে তাতে ছাইঘাট থেকে ৫০০ মিটার এলাকা কেঁপে ওঠে, কম্পন অনুভূত হয় গঙ্গার ওপারে চুঁচুড়াতেও। গঙ্গার দুই পাড়ের বহু বাড়িতে জানলার কাচ পর্যন্ত ভেঙে যায়। চুঁচুড়া পুরভবন-সহ বেশ কযেকটি বাড়িতে ফাটল দেখা যায়। ফাটল দেখা দেয় নৈহাটির দিকে বিভিন্ন বাড়িতেও। ভেঙে পড়ে অ্যাজবেস্টসের ছাদ। যেখানে বোমা নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছিল সেখান থেকে ১২০ মিটার মতো দূরে থাকা পুলিশের চারটি গাড়ির কাচ ভেঙে যায়, বিস্ফোরণের অভিঘাতে আগুন জ্বলে যায় পুলিশের দু’টি গাড়িতে। ক্ষতিপূরণ চেয়ে বিক্ষোভ শুরু হয় নৈহাটিতে, পথ অবরোধও হয়। শেষ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরে অবশ্য ঘটনাস্থল থেকে অবরোধ উঠে যায়।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close