Youth

সর্ষের মধ্যেই ভুত , চাকরির নামেই প্রতারণা খোদ পুলিশ লাইনে : প্রসেনজিতের দেহ উদ্ধার বডি গার্ড লাইনে।

অভিযোগ টাকার বিনিময়ে চাকরি দেবেন বলে ছিলেন এক পুলিশ কর্মী। টাকা পাবার পর অস্বীকার করে ওই পুলিশ কর্মী। সেই টাকা ফেরত চাইতেই প্রসেনজিৎ কলকাতায় এসেছিলেন বলে পরিবার সূত্রে দাবি। এর পড়ি খুন হন প্রসেনজিৎ।

এই মর্মান্তিক গটনা ঘটে মোমিন পুর বডিগার্ড লাইন। ২৮ বছরের প্রসেনজিৎ খুন হন বডিগার্ড লাইনেরএকটি পুকুরে। শনিবার সকালে দেহটি বডিগার্ড লাইনের ভিতরের একটি পুকুরে ভাসতে দেখা যায়।ওই যুবকের পরিবার এই ঘটনায় খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই ওয়াটগঞ্জ থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করছে। কাজের সন্ধানে থাকা বছর ২৮ শের প্রসেনজিৎ চাকরির আসায় এক পুলিশ কর্মচারীকে বেশ মোটা রকম টাকা দিয়েছিলো বলে অভিযোগ। কিন্তু সেই পুলিশ কর্মী অস্বীকার করে টাকা ফেরাতে।পরিবারের অভিযোগ চাকরির টোপ দিয়ে প্রসেনজিতের কাছ থেকে পুলিশেরই এক কর্মী টাকা নিয়েছিলেন বলে । সেই টাকা ফেরত চাইতেই প্রসেনজিৎ কলকাতায় এসেছিলেন বলে পরিবার সূত্রে দাবি।

পুলিশ সূত্রের খবর গোটা শরীরে কালশিটের দাগ।মৃতদেহের মাথায় ক্ষত ছিল।প্রসেনজিতের দেহটি ময়না-তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে শনিবার ভোরে বডিগার্ড লাইন্সের জলে একটি দেহ ভাসতে দেখে ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের জানান এক পুলিশকর্মী।প্রসেনজিতের বাবা উত্তমকুমার সিংহ উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার থানার একটি পুলিশ ক্যাম্পের কনস্টেবল। এই দুঃসংবাদ পাবার পরই খবর পেয়ে শনিবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছে হাসপাতালে যান উত্তম কুমারেরা।মৃত প্রসেনজিতের বাবা রবিবার বিশ্বজিৎ মণ্ডল এবং ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে দু’জনের বিরুদ্ধে ওয়াটগঞ্জ থানায় ছেলেকে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন।

উত্তম কুমার জানান প্রসেনজিৎ ছিল খুব শান্ত প্রকৃতির ছেলে। কারোর সাথে পাচ্ছে থাকে না। মিষ্ট ভাসি ছিল। তিনি আরো জানান তাঁর পরিবারের প্রায় সকলেই পুলিশে চাকরি করেন। কলা বিভাগে স্নাতকোত্তর পাশ করা প্রসেনজিৎও পুলিশে চাকরি করতে চাইতেন।পুলিশের চাকরির স্বপ্ন নিয়ে সে জন্য পরীক্ষাও দিয়েছিলেন। প্রসেনজিতের বাড়ী মালদহে পুখুরিয়া থানার মুরচা গ্রামে তাঁদের বাড়ি।
.
প্রসেনজিতের বাড়ির কাছে বাড়ি হরিপুরের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ এবং ইন্দ্রজিৎ দুই ভাই।আর এই দুই জন প্রসেনজিৎকে কলকাতা পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেবে বলে প্রতিশ্রীতি দেয়। তিনি আরো জানান , কথা মত তারা টাকা দেন ওই দুই ভাইকে ‘‘চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ইন্দ্রজিতেরা আমাদের থেকে ছ’লক্ষ টাকা চায়। ছেলের জন্য এখনকার মতো কোনও মতে তিন লক্ষ টাকার ব্যবস্থা করি। তিন দফায় ওরা মোট তিন লক্ষ টাকা নেয়। কিন্তু ছেলের চাকরি হয়নি। টাকা ফেরত চাইলে অনেক বার ঘুরিয়েছে, শেষে আমরা মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার কথা বলায় টাকা ফেরত দিতে রাজি হয়েছিল।’’

প্রসেনজিৎ কলকাতায় আসেন গত ৯ অগস্ট টাকা ফেরত নিতেইবলে তাঁর পরিবারের দাবি। যেহেতো প্রসেনজিতের বাবা পুলিশ কর্মী সেই হেতু বডিগার্ড লাইন্সেই তিনি থাকছিলেন। বাবা ছেলের শেষ কথা হয় ‘‘শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় ছেলের সঙ্গে শেষ বার কথা হয় আমাদের। বলে, টাকা দেয়নি ওরা। রবিবার সকালে বাড়ি ফিরে আসবে বলেছিল ও। কিন্তু তা ওরা হতে দেয়নি। তার আগেই আমার ছেলেকে মেরে জলে ভাসিয়ে দিয়েছে।’’

কেন এই খুন ? কেই বা খুন করলো। এর পিছনে মোটিভ টা কি। করা এই খুন করলো প্রসেনজিৎ কে , অভিযুক্ত দুই ভাই মুখ খোলেন নি তবে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত হবে বলে জানাগেছে পুলিশ সূত্র মারফত। এই প্রথম নই এর আগে এই ধরণের অভিযোগ উঠেছে এক শ্রেণীর পুলিশের বিরুদ্ধে।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close