Big Story

স্টিং অপারেশনে বিস্ফোরক মন্তব্য এবিভিপি নেতার, জেএনইউতে তারাই চালিয়েছিল হামলা।

হতে চলেছে প্রায় এক সপ্তাহ, চলছে তদন্ত, তাও এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। এমন সময় স্টিং অপারেশনে স্বীকারোক্তি এবিভিপির সদস্যের।

@ দেবশ্রী : গত রবিবার রাতে জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঘটে যায় তান্ডব। গার্লস হোস্টেলে চালানো হয় হামলা। কিছুজন দুষ্কৃতী মুখে কাপড় ঢেকে এসে পড়ুয়া এবং অধ্যাপক, অধ্যাপিকাদের উপর চালায় হামলা। এই হামলাতে আহত হন ছাত্র সংসদ সভানেত্রী ঐশী ঘোষ, অধ্যাপিকা সুচরিতা সেন সহ আরও অনেক পড়ুয়ারা। তবে ঘটনার এতদিন পার হলেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। অভিযোগের তীর বাঁধে এবিভিপির বিরুদ্ধে তবে তা তারা অস্বীকার করে। দিল্লি পুলিশ তদন্তে নাম, তারপর তারা বলে এই হামলার পিছনে নাকি বাম সংগঠনের হাত ছিল, তারা নিজেরাই এই হামলা ঘটিয়েছে। তবে এবারে এই হামলার ঘটনায় এক বিস্ফোরক বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি এবিভিপি নেতার। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের স্টিং অপারেশনে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন এবিভিপি নেতা অক্ষত অবস্তি। জেএনইউয়ের ওই পড়ুয়া দাবি করছেন, তিনি এবিভিপির একজন সক্রিয় সমর্থক। এবং তাঁর নেতৃত্বেই জেএনইউতে গুন্ডাগিরি করেছে এবিভিপি সমর্থকরা।

গত ৫ জানুয়ারি রবিবার জেএনইউয়ের সবরমতী হস্টেলে দুষ্কৃতীদের হামলায় আহত হয়েছেন ৩৪ পড়ুয়া। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য খোদ জেএনইউয়ের ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষ। যাঁকে দিল্লির এইমসে ভরতি করতে হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও কোনো কিনারা করতে পারেনি দিল্লি পুলিশ। এমনকী, এই ঘটনায় একজন অভিযুক্তকেও শনাক্ত করা যায়নি, গ্রেফতার হয়নি কেউ। বরং তার বদলে, পাঁচ জানুয়ারির আগে দু’দিন পরপর হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে ঐশী ঘোষকেই কাঠগড়ায় তুলেছে দিল্লি পুলিশ।

এসব বিতর্কের মধ্যেই একটি বিস্ফোরক স্টিং অপারেশনের ভিডিও প্রকাশ করেছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ইন্ডিয়া টুডে। তাঁদের স্টিং অপারেশনে দেখা গিয়েছে, এবিভিপির সমর্থক অক্ষত অবস্তি সব ঘটনার দায় নিজেদের ঘাড়ে তুলে নিচ্ছেন। স্টিং অপারেশনে ওই পড়ুয়া যা বলছেন তা হল, সেদিন ক্যাম্পাসে হামলা চালিয়েছিল এবিভিপির দল। আর এই হামলাকারীদের মধ্যে অনেকেই বহিরাগত। বাকিরা জেএনইউয়েরই ছাত্র। এবং এই হামলার নেতৃত্বে সে নিজেই ছিল। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামলার সব বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। সে বলছে, ‘পেরিয়ার হস্টেল থেকে আমি একটি লাঠি তুলে নিয়েছিলাম। আমি এলাকায় অনেক গুন্ডাগিরি দেখেছি, তাই আমাকেই নেতৃত্ব দিতে হয়েছে এই হামলার। আমরা যখন হামলা করি, তখন শিক্ষক-ছাত্র যাঁরা ছিল, তারা সবাই পালায়।’

ওই ছাত্রনেতা ফলাও করে বলছেন, ‘আমি আপনাকে নিশ্চিত করছি, আমিই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছি। বাকিদের এত বুদ্ধি নেই। কোথায়, কীভাবে হামলা চালাতে হবে সবকিছুতেই আমি ওঁদের নেতৃত্ব দিয়েছি। আমি দলের কোনও পদে নেই। তবু, সবাই আমার কথা শুনেই কাজ করেছে।’

আর এই ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই তৈরী হয়েছে নতুন ঝড়। ঠিক কী সত্য বা কে সত্য তা নিয়ে উঠছে বহু প্রশ্ন। এখন দেখার বিষয় এবারে কোন দিকে যায় এই ঘটনা।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close