Analysis

হল না ম্যানেজ , পিছিয়ে গেল বিজেপি : চাণক্যের পরাজয় মানতে নারাজ শাহ রাজ্

৮০ ঘণ্টা যা মহারাষ্ট্রকে নাড়া দিয়েছে তা অতিতিতের ইতিহাস কেও ছাড়িয়ে গেছে।শিবসেনা -এনসিপি-কংগ্রেস কীভাবে এক ছাতার তলায় এলো তাই নিয়ে জোর জল্পনার অতল গভীরের খোঁজ।

নিজস্ব সংবাদদাতা : ২২ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় শিবসেনা, এনসিপি এবং কংগ্রেস মহারাষ্ট্রে তাদের জোট চূড়ান্ত করেছে। এনসিপির প্রধান শরদ পওয়ার ঘোষণা করেছিলেন যে উদ্ধব ঠাকরে মহারাষ্ট্রের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে সহমত রয়েছে।

বিজেপির প্রাথিমিক ধারণা ছিল যে এই তিন দলের সমঝোতা হবে না কারণ , হিন্দুত্ব লাইনে হাটা দীর্ঘ দিনের বিজেপির সাথী শিবসেনা ও কংগ্রেসের মধ্যে কোন সমঝোতা হবে না।  তার ওপর উদ্ভব থাকতে ছেলে কে মেনে নেবে না।  কিন্তু পাশা উল্টে দিল শরদ পওয়ার এর দক্ষতা ও বহু যুদ্ধের অভিজ্ঞতা।  পিছিয়ে যেতে হল বাধ্য হয়ে অজিত পওয়ারকে , মানতে হল দলের নির্দেশ। তিন দলের সমঝোতার পরে ঘোষণার সাথে সাথেই  মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতির শাসন বাতিলের প্রস্তাব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। রাষ্ট্রপতি স্বাসন এই সিদ্ধান্তটি মন্ত্রিসভার বৈঠক না করেই নেওয়া হয়েছিল।

২৩ নভেম্বর সকাল ৪ টেঁ বেজে ৪৭ মিনিটে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারি রাষ্ট্রপতির শাসন বাতিল করেছিলেন।সকাল আটটায় দেবেন্দ্র ফড়নবীশ মুখ্যমন্ত্রী এবং অজিত পওয়ার উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।গণমাধ্যন কে আড়ালে রেখেই এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান করেন রাজ্যপাল , এমনকি প্রসার ভারতীকেও অবহিত করা হয়নি কারণ এর ফলে বিশদভাবে তথ্য ফাঁস হতে পারে।

আর এভাবে ৮০ ঘন্টার রাজনৈতিক থ্রিলার শুরু হয়েছিল যা মহারাষ্ট্রকে চমকে দিয়েছিল। এটি একদিকে বিজেপি, অজিত পওয়ার এবং কেন্দ্রীয় সরকার আর অন্যদিকে শিবসেনা, এনসিপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে লড়াই ছিল খুব জোরদার ।

অতি ধূর্ততা সাথে বিজেপির সাথে হাত মেলানোর খবর এনসিপির প্রধান শরদ পওয়ার ২৩ শে নভেম্বর সকালেই খবর পেয়ে পাল্টা চাল চলেন শিবসেনা ও কংগ্রেস কে নিয়ে।  সূত্রের খবর , কংগ্রেসের সুপ্রিম সোনিয়া গান্ধীর সাথে কথা বলে শিবসেনার সাথে যুক্তি পরামর্শ করে ২৩ তারিকেই ঠিক করে ফেলেন অতি গোপনে নিজেদের বিধায়ক দের  সাথে অজিত পওয়ারের অনুপস্থিতিতে সম্মতি আদায় করে ফেলেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তার ফলে গোপনেই চলতে থাকা অপারেশন কমলের বিপক্ষের লড়াই। 

অন্য দিকে অজিত পওয়ার বুঝতে পারেন যে তার রাজনৈতিক জীবনের ছেদ আস্তে চলেছে , কারণ সাধারণ মানুষ ও তার ঘনিষ্ট কর্মী নেতারাও তার এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু করেছে প্রকাশ্যে ফলে , হাওয়া বুঝে মত বদলের পথে হাটতে শুরু করেন।  আবার যদি ধরা যায় অজিত পওয়ার আগামীর এনসিপির প্রধানের জায়গাও চলে যেতে বসেছে।  কারণ অজিত পওয়ার এনসিপির প্রধান শরদ পওয়ারের  অতি ঘনিষ্ঠ ও ভরসাযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবেই বিবেচিত হতেন।  ফলে বিজেপির সাথে যুক্ত হয়ে বা দল ভাঙিয়ে বিজেপির হাতে ক্ষমতা তুলে আখেরে অজিত পওয়ারের কোন লাভ নেই কারণ যে কোন সময় তার পদ চলে যেতে পারে এবং রাজ্য বিজেপির অনেক উপযুক্ত নেতৃত্ব থাকতে তাকে সে ভাবে কোন প্রাধান্য দেবে না।  পাটিগণিত কষে লাভ ক্ষতির হিসেবে ক্ষতির থেকে লাভ কম তাই পুনরায় ফিরে এলেন  এনসিপিতে।

এর পাশাপাশি শিবসেনা নিজের অবস্থান থেকে অনেক টাই সরে এসেছে ,  কারণ উদ্ভব ঠাকরের ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী করবে না সিদ্ধান্ত নেবার পর এনসিপির  শরদ পওয়ার ও কংগ্রেস মেনে নেয়।  

শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে ও সঞ্জয় রাউতের সাথে এবং কংগ্রেসে আহমেদ প্যাটেল, মল্লিকার্জুন খড়গ, কেসি ভেনুগোপাল এবং পৃথ্বীরাজ চব্বনের সাথে সাথে আলোচনার গতি বাড়তেই অবস্থার পরিবর্তন হয় ।শরদ পওয়ার এবং এনসিপি-র অন্যান্য নেতৃবৃন্দ দীর্ঘ আলোচনায় উঠে আসে যে  কীভাবে অজিত পওয়ারের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং এনসিপি মেনে নেবে। শিবসেনা  নেতৃত্ব প্রথমে আশঙ্খা  করেছিল যে  সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে শরদ পওয়ার কে নিয়ে কংগ্রেসের সাথে কথা বলে মধ্যস্থ করেন।  

রাজ্য  জুড়ে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায় এনসিপির ক্ষেত্রে   “পার্টি ও পরিবার বিভক্ত”, এনসিপির অনেক বিধায়ক এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে অজিত পাওয়ার নিজে দলের বিরুদ্ধে কাজ করছেন।  আর এই ক্ষেত্রে নোটিক সমর্থনও হারিয়েছেন অজিত পওয়ার।  এই  সময়ই এনসিপির প্রবীণ নেতা জয়ন্ত পাতিল, ছাগন ভূজবাল, দিলীপ ওয়ালসে পাতিল এবং শরদ পওয়ার ও সুলে অ্যাকশনে যোগ দিলেন এবং অজিত পওয়ারকে সমর্থন না করার আহ্বান জানিয়ে বিধায়কদের কাছে পৌঁছাতে শুরু করলেন।

একাধারে প্রবীণ জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শরদ পওয়ার এই আলোচনায়  আবেগ প্রবন আবেদনে সকলেই সম্মতি দেন ।  ফলে শরদ পওয়ারের  আপিল আবেগপ্রবণ। ফলে অজিত পওয়ারের গ্রহণ যোগ্যতা ও সেই সাথে বিশ্বাস যোগ্যতাও অনেকাংশে কমে গেল। 

এদিকে, পওয়ার, উদ্ধব ঠাকরে এবং কংগ্রেসের প্রবীণ নেতাদের নিয়ে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছিল। তারা অজিত পাওয়ারকে আক্রমণ না করার বিষয়ে সতর্ক ছিলেন এবং পরিবর্তে, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন গভর্নর কোশিয়ারিকে লক্ষ্য করার দিকে। এনসিপি বিশেষত এটিকে অজিত পাওয়ারের বিরুদ্ধে প্রচারের মতো মনে করেন না , পাছে তিনি দলের বিধায়কদের সহানুভূতি পেলেন।

এনসিপি ও শিবসেনার বিধায়কদের নির্দিষ্ট হোটেলে গোপনীয়তা বজায় রেখেই তাদের রাখা হয়েছিল যাতে বিপক্ষের হাতে না পরে যায়। এর ফলে গণতন্ত্রে চরম অবস্থা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। শিবসেনা মুম্বাই জুড়ে এর বিস্তৃত ক্যাডার নেটওয়ার্ককে সংগঠিত করে এবং “সুরক্ষা” দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিল। সেনাবাহিনীর সিনিয়র নেতারা একনাথ শিন্ডে, মিলিন্দ নার্ভেকর এবং অনিল দেশাই এই অভিযানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তারা কংগ্রেস এবং এনসিপি উভয়ের নেতাদের সাথে অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ রেখেই এই কাজ সম্পন্ন করেন।  অনেকেই মনে করছিলেন যে বিধায়কদের কেবল বিজেপি কর্মীরা নয় পুলিশ থেকেও রক্ষা করা দরকার।যে সকল হোটেলগুলিতে শ্রমিক শ্রমিক সেনা – শিবসেনার শ্রমিক শাখা – ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রিত ছিল তাদের বিধায়কদের আন্দোলনের উপর নজর রাখা আরও সহজ হবে বলে মত ছিল নেতাদের।

অন্য দিকে মুম্বই বিমানবন্দরে কর্মরত শিবসেনার  সদস্যদেরও বিশেষ সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল যে  রাজ্যের বাইরে যে কোনও বিধায়ক না যেতে পারেন।শিব সেনার  প্রচেষ্টার কারণে এনসিপি বিধায়ক সঞ্জয় বনসোদ বিমানবন্দরে বাধা পেয়েছিলেন। একনাথ শিন্ডে এবং নার্ভেকর তাকে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে এনে ওয়াইবি চাওয়ান সেন্টারে নামিয়ে দিয়েছিলেন, বলা হয় যে এনসিপি প্রধান তার সাথে কথা বলবেন।আবার হরিয়ানার গুরুগ্রামে এনসিপির কয়েকজন বিধায়ককে “উদ্ধার” করেছিলেন। 

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close