Health

হাসতে থাকুন, হাসাতে থাকুন… শরীর মন দুটোই থাকবে ভালো।

বর্তমানের ব্যস্ততার জীবনে, আমরা সবাই যেন প্রাণ খুলে হাসতে একরকম ভুলেই গেছি। কিন্তু আমাদের প্রাণবন্ত হাসিই পারে, আমাদের সুস্থ-সবল রাখতে।

@ দেবশ্রী : প্রানখুলে হাসলে শরীর আর মন যে ভালো থাকে তা আমরা সবাই জানি। আর শরীর আর মন, এই দুটিকে ভালো রাখতে হাসির থেকে ভালো কোনো বিকল্প হতে পারে না। বর্তমান দিনে আমরা প্রত্যেকেই, নানান স্ট্রেসের মধ্যে দিয়ে কাটাই আর বলাবাহুল্য এই স্ট্রেস আমাদের শরীরে অনেক প্রভাব ফেলে বিশেষ করে আমাদের মনে। কোথাও যেন হারিয়ে যাচ্ছে, মানুষের সেই প্রাণ খোলা হাসি। তাই আমাদের চেষ্টা করা উচিত সবসময় প্রাণ খুলে হাসার। তাই সবসময় হাসি থাকুন, আর তাতেই ভালো থাকবে আপনার শরীর ও মন। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, হাসি নানাভাবে আমাদের শরীরের গঠনে সাহায্য করে। আজকের দুনিয়ায় যখন স্ট্রেসের মাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন হাসিই কিন্তু আমাদের নানা রোগের হাত থেকে বাঁচাতে পারে। আর আমাদর নিজের স্বাস্থ্য, নিজেদের হাতেই।সুতরাং আমাদের ভালো থাকাটাও কিন্তু আমাদের স্বয়ং ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।

প্রানখুলে হাসলে, আমাদের শরীরের অনেক রোগ যায় কমে। আর আমরা থাকতে পারি সুষ্ঠ ও সবল।

হাসির ফলে আমাদের শরীরে টি-সেলের ক্ষমতা বাড়ে। আর এই বিশেষ ধরনের কোষটির শক্তি যত বাড়তে থাকে, তত শরীর ভিতর থেকে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রোজের আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। আর হাসিতে লুকিয়ে আছে সেই রোগের ওষুধ। যত হাসবেন তত বাড়তে থাকবে টি-সেলের কর্মক্ষমতা।

যখনি আমাদের মন খারাপ হয়, তখনি আমরা নানান দুস্চিন্তা করতে থাকি। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হয়। কিন্তু আপনি যখনি প্রাণ খুলে হাসতে থাকবেন আপনার মানসিক চাপ কমবে সাথে খুব ভালো ও হালকা অনুভব করতে পারবেন। সুতরাং মন ঠিক রাখতে থাকতে হবে হাসি খুশি।

আমাদের শরীরে রয়েছে একটি হরমোন, যার নাম ‘ফিল গুড’ হরমোন। আর হাসলেই এই হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই হরমোনগুলি নানাভাবে শ্বেত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাই শক্তিশালী হয়ে যায় যেকোনও রোগই শরীরকে ছুঁতে পারে না। সেই সঙ্গে রোগে সংক্ৰমিত হওয়ার আশঙ্কাও যায় কমে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে আমরা যখন হাসি তখন আমাদের সারা শরীরে রক্তের প্রভাব একদিকে যেমন বেড়ে যায় ঠিক তেমনি রক্তনালীগুলি প্রসারিত হতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই শিরা-ধমনীর উপর চাপ কম পরে। আর এর ফলে যাদের হাই প্রেসার রয়েছে তাদের ব্লাড প্রেসার ও কমতে সময় লাগে না।

যখনই আমরা হাসি, তখনই ফুসফুস প্রসারিত হয় এবং আমাদের ফুসফুসের প্রতিটি কোনাতে সেই সময় বিশুদ্ধ অক্সিজেনে ভরে যায়। এমনটা যত পরিমানে হতে থাকে, তত সারা শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ে। ফলে নানাবিধ রোগের প্রকোপ হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে ফুসফুসের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

হাসিকে একটি যোগ ব্যায়ামের পদ্ধতিও বলা হয়ে থাকে। আর আমরা যখন হাসি তখন, আমাদের শরীরে জমে থাকা ক্যালোরি গুলি বার্ন হতে থাকে। শুধুই তাই নয় কিন্তু, তখন আমাদের পেতে চাপও পড়ে। ফলে আমাদের ওজন কমানোর পথটাও বেশ সহজ হয়ে যায়।

প্রানখুলে হাসার ফলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের যে স্ট্রেস তার থেকেও কিন্তু মুক্তি পাওয়া যায়। হাসির সময় আমাদের শরীরে এন্ডোরফিন হরমোনের ক্ষরণ হয়, যা স্ট্রেস হরমোন নাম পরিচিত। এটি কর্টিজল হরমোনের কার্যক্ষমতাকে কমিয়ে ফেলে। ফলে হাসির জোয়ারে মানসিক চাপ যে কখন দূরে পালায়, তা বোঝাই যায় না।

সুতরাং যখনই সুযোগ পাবেন হাসতে থাকুন মন খুলে। শরীর ও মন দুটোই থাকবে বেশ ভালো। আর থাকবেন রোগ মুক্ত।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close